ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

জবিতে বেদখলকৃত হল উদ্ধারে ছাত্রদলের ১০ দিনের আল্টিমেটাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল ও আব্দুর রহমান হল পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার ব্যানারসহ একটি র‍্যালি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল দুটির সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা আব্দুর রহমান হল ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল ঘুরে দেখেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন যে, হলগুলো দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম আবাসন সংকটে ভুগছেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে হলগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় তারা নিজেদের ন্যায্য আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশে মেসে বসবাস করছেন, যেখানে অনেকে আর্থিক সংকটের কারণে টিকতেও পারছেন না। তাদের মতে, হলগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে আবাসন সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন বা হল একটি ন্যায্য অধিকার, কিন্তু বছরের পর বছর তারা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, ‘এই অবস্থা আর চলতে পারে না।’ এই সংকট নিরসনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। এরই ধারাবাহিকতায় দুটি হল উদ্ধারের দাবিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রশাসনকে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করা হবে।

ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলেও দীর্ঘদিন তা অবহেলিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ন্যায্য হল ফিরে পেতে চাই। এই হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্যই, তাই এগুলো পুনরুদ্ধার করতেই হবে।’

ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, হল দখলমুক্ত করতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে তারা স্বেচ্ছায় না সরলে পরবর্তীতে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কোনো অপশক্তির কাছে আমরা নতি স্বীকার করবো না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অতীতে খতিয়ান জালিয়াতির মাধ্যমে এসব হ (বাক্যটি অসম্পূর্ণ)।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

জবিতে বেদখলকৃত হল উদ্ধারে ছাত্রদলের ১০ দিনের আল্টিমেটাম

আপডেট সময় : ১০:০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল ও আব্দুর রহমান হল পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার ব্যানারসহ একটি র‍্যালি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল দুটির সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা আব্দুর রহমান হল ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল ঘুরে দেখেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন যে, হলগুলো দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম আবাসন সংকটে ভুগছেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে হলগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় তারা নিজেদের ন্যায্য আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশে মেসে বসবাস করছেন, যেখানে অনেকে আর্থিক সংকটের কারণে টিকতেও পারছেন না। তাদের মতে, হলগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে আবাসন সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন বা হল একটি ন্যায্য অধিকার, কিন্তু বছরের পর বছর তারা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, ‘এই অবস্থা আর চলতে পারে না।’ এই সংকট নিরসনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। এরই ধারাবাহিকতায় দুটি হল উদ্ধারের দাবিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রশাসনকে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করা হবে।

ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলেও দীর্ঘদিন তা অবহেলিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ন্যায্য হল ফিরে পেতে চাই। এই হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্যই, তাই এগুলো পুনরুদ্ধার করতেই হবে।’

ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, হল দখলমুক্ত করতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে তারা স্বেচ্ছায় না সরলে পরবর্তীতে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কোনো অপশক্তির কাছে আমরা নতি স্বীকার করবো না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অতীতে খতিয়ান জালিয়াতির মাধ্যমে এসব হ (বাক্যটি অসম্পূর্ণ)।