ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নববর্ষে নতুন রূপে সেজেছে পবিত্র কাবা শরিফ, পরানো হলো নতুন গিলাফ

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান মক্কার মসজিদুল হারামে নতুন হিজরি বছরকে স্বাগত জানিয়ে ঐতিহ্যবাহী কাবা শরিফে পরানো হয়েছে নতুন গিলাফ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে এই গিলাফ পরিবর্তনের কাজটি সম্পন্ন হয়েছে।

পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সের দক্ষ সৌদি কারিগরদের অংশগ্রহণে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। প্রথমে কাবার গিলাফে থাকা সোনার প্রলেপযুক্ত ও রুপার তৈরি ক্যালিগ্রাফি, অলঙ্করণ এবং দরজার পর্দা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সরানো হয়। এরপর ধাপে ধাপে পুরোনো গিলাফ নামিয়ে নতুন গিলাফ স্থাপন করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাবার গিলাফ পরিবর্তন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, উন্নত কারিগরি দক্ষতা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা নিবিড় প্রস্তুতির ফল। আল্লাহর ঘরের সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে গিলাফের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত যত্ন ও নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করা হয়।

নতুন গিলাফ তৈরিতে প্রায় ৮২৫ কেজি উচ্চমানের প্রাকৃতিক সিল্ক ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাইরের আবরণে ৪৭ থান কালো সিল্ক এবং ভেতরের স্তরে প্রায় ৪০০ কেজি খাঁটি তুলা ব্যবহৃত হয়েছে। গিলাফের নান্দনিক ক্যালিগ্রাফি ও অলঙ্করণে প্রায় ৬০ কেজি রুপা এবং ১২ কেজি সোনা জড়ানো রুপার সুতো ব্যবহার করা হয়েছে।

গিলাফ তৈরির আগে ব্যবহৃত কাঁচামাল বিশেষ পরীক্ষাগারে বিভিন্ন মাননিয়ন্ত্রণ ও স্থায়িত্ব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়। জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব সহ্য করে এক বছর ধরে গিলাফের মান অক্ষুণ্ন রাখতে এই পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করা হয়।

পরীক্ষা শেষে কাপড়ের ওপর পবিত্র কোরআনের আয়াত ও ইসলামিক নকশার নকশা অঙ্কন করা হয়। এরপর দক্ষ কারিগররা সোনা ও রুপার সুতো ব্যবহার করে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারির মাধ্যমে আয়াত ও অলঙ্করণ ফুটিয়ে তোলেন। আধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প পদ্ধতিও এই কাজে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে জটিল ও সূক্ষ্ম অংশগুলো তৈরিতে।

গিলাফ তৈরির পুরো প্রক্রিয়া সাতটি ধাপে সম্পন্ন হয়: সুতো রঙ করা, মেশিনে কাপড় বোনা, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, নকশা প্রস্তুত, এমব্রয়ডারি, হাতে বয়ন এবং চূড়ান্ত সংযোজন। সব অংশ প্রস্তুত হওয়ার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গিলাফটি মসজিদুল হারামে নিয়ে গিয়ে কাবা শরিফে স্থাপন করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: ‘দেশ বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না’, আশ্বাস উপদেষ্টার

নববর্ষে নতুন রূপে সেজেছে পবিত্র কাবা শরিফ, পরানো হলো নতুন গিলাফ

আপডেট সময় : ০২:২৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান মক্কার মসজিদুল হারামে নতুন হিজরি বছরকে স্বাগত জানিয়ে ঐতিহ্যবাহী কাবা শরিফে পরানো হয়েছে নতুন গিলাফ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে এই গিলাফ পরিবর্তনের কাজটি সম্পন্ন হয়েছে।

পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সের দক্ষ সৌদি কারিগরদের অংশগ্রহণে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। প্রথমে কাবার গিলাফে থাকা সোনার প্রলেপযুক্ত ও রুপার তৈরি ক্যালিগ্রাফি, অলঙ্করণ এবং দরজার পর্দা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সরানো হয়। এরপর ধাপে ধাপে পুরোনো গিলাফ নামিয়ে নতুন গিলাফ স্থাপন করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাবার গিলাফ পরিবর্তন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, উন্নত কারিগরি দক্ষতা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা নিবিড় প্রস্তুতির ফল। আল্লাহর ঘরের সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে গিলাফের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত যত্ন ও নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করা হয়।

নতুন গিলাফ তৈরিতে প্রায় ৮২৫ কেজি উচ্চমানের প্রাকৃতিক সিল্ক ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাইরের আবরণে ৪৭ থান কালো সিল্ক এবং ভেতরের স্তরে প্রায় ৪০০ কেজি খাঁটি তুলা ব্যবহৃত হয়েছে। গিলাফের নান্দনিক ক্যালিগ্রাফি ও অলঙ্করণে প্রায় ৬০ কেজি রুপা এবং ১২ কেজি সোনা জড়ানো রুপার সুতো ব্যবহার করা হয়েছে।

গিলাফ তৈরির আগে ব্যবহৃত কাঁচামাল বিশেষ পরীক্ষাগারে বিভিন্ন মাননিয়ন্ত্রণ ও স্থায়িত্ব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়। জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব সহ্য করে এক বছর ধরে গিলাফের মান অক্ষুণ্ন রাখতে এই পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করা হয়।

পরীক্ষা শেষে কাপড়ের ওপর পবিত্র কোরআনের আয়াত ও ইসলামিক নকশার নকশা অঙ্কন করা হয়। এরপর দক্ষ কারিগররা সোনা ও রুপার সুতো ব্যবহার করে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারির মাধ্যমে আয়াত ও অলঙ্করণ ফুটিয়ে তোলেন। আধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প পদ্ধতিও এই কাজে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে জটিল ও সূক্ষ্ম অংশগুলো তৈরিতে।

গিলাফ তৈরির পুরো প্রক্রিয়া সাতটি ধাপে সম্পন্ন হয়: সুতো রঙ করা, মেশিনে কাপড় বোনা, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, নকশা প্রস্তুত, এমব্রয়ডারি, হাতে বয়ন এবং চূড়ান্ত সংযোজন। সব অংশ প্রস্তুত হওয়ার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গিলাফটি মসজিদুল হারামে নিয়ে গিয়ে কাবা শরিফে স্থাপন করা হয়।