ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্রের ২.৩৫ লাখ ডলার অনুদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত ১৭শ শতাব্দীর ঐতিহাসিক মুঘল স্থাপনা মুসা খাঁ মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) থেকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অনুদান ঘোষণা করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা মসজিদটি পরিদর্শন করেন এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই সংরক্ষণ উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে মসজিদটি তার ঐতিহাসিক মর্যাদা ও মুঘল স্থাপত্যশৈলীর স্বকীয়তা পুনরুদ্ধার করবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সাংস্কৃতিক পর্যটনকে উৎসাহিত করবে, গবেষণার সুযোগ বাড়াবে এবং তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, সংস্কৃতি সংরক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং গত দুই দশকে অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়তা করতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত। তিনি জানান, এই প্রকল্পটি বাংলাদেশে এই তহবিলের আওতায় ১৩তম উদ্যোগ। রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু স্থাপনার নান্দনিক পুনরুদ্ধারই নয়, বাংলাদেশি প্রত্নতত্ত্ববিদ ও সংরক্ষণবিদদের দক্ষতাও বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি একটি ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা হবে, যা বিশ্বব্যাপী গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিনি জানান, গত ২০ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৮ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের মহোৎসব

ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্রের ২.৩৫ লাখ ডলার অনুদান

আপডেট সময় : ০৫:০৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত ১৭শ শতাব্দীর ঐতিহাসিক মুঘল স্থাপনা মুসা খাঁ মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) থেকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অনুদান ঘোষণা করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা মসজিদটি পরিদর্শন করেন এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই সংরক্ষণ উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে মসজিদটি তার ঐতিহাসিক মর্যাদা ও মুঘল স্থাপত্যশৈলীর স্বকীয়তা পুনরুদ্ধার করবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সাংস্কৃতিক পর্যটনকে উৎসাহিত করবে, গবেষণার সুযোগ বাড়াবে এবং তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, সংস্কৃতি সংরক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং গত দুই দশকে অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়তা করতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত। তিনি জানান, এই প্রকল্পটি বাংলাদেশে এই তহবিলের আওতায় ১৩তম উদ্যোগ। রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু স্থাপনার নান্দনিক পুনরুদ্ধারই নয়, বাংলাদেশি প্রত্নতত্ত্ববিদ ও সংরক্ষণবিদদের দক্ষতাও বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি একটি ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা হবে, যা বিশ্বব্যাপী গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিনি জানান, গত ২০ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৮ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।