গণভোট বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এবং ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব। তিনি গণভোটের পক্ষে নিজের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
গত সোমবার (৩০ মার্চ) মধ্যরাতে, জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির এই নেতা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই হুঁশিয়ারি দেন। গণভোট অধ্যাদেশ বিল বাতিলের ঘোষণা প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। সরকারি দলের জোটে থাকা ভিপি নুরুল হকের ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের এই নেতা তার পোস্টে বিএনপি ও সরকারের গণভোটবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেন।
জবি ছাত্ররাজনীতিতে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই ছাত্রনেতা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘গণভোটে কেন নয়ছয়!’ তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার, বিরোধী দল এবং দেশের সকল মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ—সকলেই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ এবং জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তার মতে, জুলাই আন্দোলন সংগঠিত না হলে দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা বিএনপি হয়তো ক্ষমতার মুখ দেখতে পেত না। এছাড়াও, ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে আসা নেতারা বিরোধী দলের ভূমিকায় অধিষ্ঠিত হতে পারতেন না এবং সাধারণ মানুষ ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে বের হতে পারত না। সর্বোপরি, আজ যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ চলছে, তা কেবল স্বপ্নই থেকে যেত।
রাকিব আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে দলমত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছিল। এর ফলস্বরূপ একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যার মূল দায়িত্ব ছিল সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এই দায়িত্বের একটি অংশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বাকি অংশ নির্বাচিত সরকার সম্পন্ন করবে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গণভোট। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণভোট কী এবং কেন—এসব এখন পুরোনো কথা। তিনি মনে করেন, গণহত্যাকারী, স্বৈরাচার এবং ভারতকে দেশ বর্গা দেওয়া আওয়ামী লীগ ছাড়া, জুলাইপক্ষের প্রায় সকলেরই গণভোটের বিষয়ে সম্মতি ছিল। এমনকি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীও গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং গণভোটের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের পর কেন গণভোট নিয়ে এত টালবাহানা? তবে কি সরকারি দল গণভোটের পক্ষে ছিল না? যদি না-ই থাকে, তাহলে গণভোটের সিদ্ধান্ত মেনে কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে? তিনি এই প্রশ্নটি অসম্পূর্ণ রেখে দেন।
রিপোর্টারের নাম 

























