আসন্ন এপ্রিল মাসে দেশে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা চরম চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং সেচ মৌসুমের বাড়তি চাহিদার বিপরীতে প্রয়োজনীয় গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। বিপিডিবি এপ্রিল মাসে দৈনিক ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের দাবি জানালেও পেট্রোবাংলা সেই চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব বলে মনে করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বিপিডিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী, এপ্রিলে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৮,৫০০ মেগাওয়াটে। এই চাহিদা মেটাতে ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও পেট্রোবাংলা বড়জোর ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট দেওয়ার আলোচনা করছে। বর্তমানে দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ১২,২০৪ মেগাওয়াট হলেও গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা অলস বসে আছে। এর সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও দেড় হাজার মেগাওয়াট সিস্টেমের বাইরে থাকায় চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা এড়ানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যুৎ খাতের এই সংকটের পেছনে কেবল গ্যাসের অভাব নয়, বরং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিশাল বকেয়াও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সংগঠন বিআইপিপিএ জানিয়েছে, প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া থাকায় তারা নতুন করে তেল আমদানির এলসি খুলতে পারছে না। বর্তমানে যে পরিমাণ তেল মজুত আছে তা দিয়ে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত উৎপাদন চালানো সম্ভব হতে পারে। এরপর অর্থ সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিআইপিপিএ প্রেসিডেন্ট কেএম রেজাউল হাসানাত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না, যা একটি ভয়াবহ সংকেত।
বিপিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, অন্তত ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে কয়লা সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্থির দাম বিপিডিবিকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। এপ্রিল-মে মাস সাধারণত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। এবার তার সঙ্গে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আর্থিক সংকট যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে তীব্র লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























