ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

১৩ নভেম্বর দিনভর গ্যাস বেলুন উড়িয়ে কার্যক্রম জানান দেয়ার পরিকল্পনা আ. লীগের

আগামী ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা গণহত্যার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক নাশকতার আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং দেশে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার নীলনকশা তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কঠোর পন্থী কর্মীদের বাছাই করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রাজধানীতে কিছু স্থানে গ্যাস বেলুন উড়িয়ে কার্যক্রম জানান দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। এছাড়া, ভারত থেকে এই নাশকতার সমন্বয় করা হচ্ছে, যার মূল সমন্বয়ক হিসেবে ভারতে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম উঠে এসেছে।

রবিবার (৯ নভেম্বর) পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কোনো ধরনের অস্থিরতা, অবৈধ কর্মকাণ্ড, মিছিল বা অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর আগে, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম ফ্যাসিবাদ গোষ্ঠীর আন্দোলন বা ব্লকেডের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং জনগণই তাদের প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেন। ডিএমপি’র গোয়েন্দা পুলিশ ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় নাশকতার ডিজিটাল প্রশিক্ষণ দেওয়া ক্যাডারদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনীর একজন মেজরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, দেশে অবস্থান করা কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত। ভারতে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ একাধিক সেনা কর্মকর্তা এই অস্থিরতা তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন বলে জানা গেছে। পলাতক সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদার, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরি সম্রাটও এই মিশনে সমন্বয় করছেন। এছাড়াও, গত ৫ আগস্টের লুট হওয়া এবং বাইরে থেকে আনা আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ করে আওয়ামী লীগ তা ব্যবহারের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে; সম্প্রতি বিমানবন্দরে অস্ত্রের চালান আটকের ঘটনা সেই আশঙ্কাই বাড়াচ্ছে। ১৩ নভেম্বরকে ঘিরে মহাসড়ক অচল করে দেওয়া, ঢাকায় অগ্নিসংযোগ, পরিবহনে নাশকতা এবং আদালতপাড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণের ছকও আঁকা হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে গুরুত্বারোপ

১৩ নভেম্বর দিনভর গ্যাস বেলুন উড়িয়ে কার্যক্রম জানান দেয়ার পরিকল্পনা আ. লীগের

আপডেট সময় : ০৮:০০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

আগামী ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা গণহত্যার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক নাশকতার আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং দেশে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার নীলনকশা তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কঠোর পন্থী কর্মীদের বাছাই করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রাজধানীতে কিছু স্থানে গ্যাস বেলুন উড়িয়ে কার্যক্রম জানান দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। এছাড়া, ভারত থেকে এই নাশকতার সমন্বয় করা হচ্ছে, যার মূল সমন্বয়ক হিসেবে ভারতে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম উঠে এসেছে।

রবিবার (৯ নভেম্বর) পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কোনো ধরনের অস্থিরতা, অবৈধ কর্মকাণ্ড, মিছিল বা অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর আগে, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম ফ্যাসিবাদ গোষ্ঠীর আন্দোলন বা ব্লকেডের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং জনগণই তাদের প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেন। ডিএমপি’র গোয়েন্দা পুলিশ ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় নাশকতার ডিজিটাল প্রশিক্ষণ দেওয়া ক্যাডারদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনীর একজন মেজরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, দেশে অবস্থান করা কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত। ভারতে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ একাধিক সেনা কর্মকর্তা এই অস্থিরতা তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন বলে জানা গেছে। পলাতক সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদার, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরি সম্রাটও এই মিশনে সমন্বয় করছেন। এছাড়াও, গত ৫ আগস্টের লুট হওয়া এবং বাইরে থেকে আনা আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ করে আওয়ামী লীগ তা ব্যবহারের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে; সম্প্রতি বিমানবন্দরে অস্ত্রের চালান আটকের ঘটনা সেই আশঙ্কাই বাড়াচ্ছে। ১৩ নভেম্বরকে ঘিরে মহাসড়ক অচল করে দেওয়া, ঢাকায় অগ্নিসংযোগ, পরিবহনে নাশকতা এবং আদালতপাড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণের ছকও আঁকা হয়েছে।