ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড: ক্রীড়াঙ্গনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে সরকার

বাংলাদেশ সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে এক লক্ষ টাকা করে ভাতা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (উদ্বোধন) ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনা এবং ক্রীড়া কার্ড প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আগামী এপ্রিল মাস থেকে এই ক্রীড়া ভাতা চালু হচ্ছে। প্রথম ধাপে মোট ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগকে খেলোয়াড়রা ব্যাপকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

নারী ফুটবল দলের তারকা সাবিনা খাতুন এই উদ্যোগকে সব ক্রীড়াবিদের জন্য একটি বিরাট প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে খেলোয়াড়রা প্রথমবারের মতো এমন সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাদের মধ্যে নতুন উৎসাহ জাগিয়ে তুলবে এবং কাজের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেবে।’ এশিয়া কাপে স্বর্ণপদকজয়ী আর্চার হিমু বাছাড় মন্তব্য করেন, ‘ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই খেলাধুলায় আসতে নিরুৎসাহিত হতেন। এখন ক্রীড়াবিদরা ভাতার আওতায় আসায় অনেকেই তাদের পছন্দের খেলা বেছে নিতে পারবেন। এটি একটি দারুণ উদ্যোগ।’

টেবিল টেনিসের তারকা খেলোয়াড় খই খই মারমা তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি যে মাসে এত টাকা বেতন পাব। এটি প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতি তিন-চার মাস পর পর এই ভাতার পরিবর্তন হলে খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। আমরা যারা এই পর্যায়ে এসেছি, তারা আরও ভালো কিছু করার জন্য অনুপ্রাণিত হব।’

বেতনভুক্ত হওয়ায় প্যারা অ্যাথলেট শহীদ উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘চলাফেরা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ অনেক বেশি। খেলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা থেকেই যাই। সরকার আমাদের এই ভাতা দিচ্ছে, এতে আমরা অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’ পদকজয়ী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে নিতে চেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে এবং এর ফলাফলকেও উন্নত করবে। আমরা এখন খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারব, যা আগে সম্ভব ছিল না।’ ব্যাডমিন্টন তারকা আল আমিন জুমা বলেন, ‘আমাদের আর কেবল মৌসুমের উপর নির্ভর করতে হবে না। সরকার আমাদের এমন বড় সম্মাননা দিয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক ভালো ফলাফল রয়েছে, এবং এই ভাতা আমাদের আরও ভালো করার প্রেরণা যোগাবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নোনাজলে ফিকে হওয়া স্বপ্ন ও একটি প্রজন্মের নিঃশব্দ সলিলসমাধি

খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড: ক্রীড়াঙ্গনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে সরকার

আপডেট সময় : ১১:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে এক লক্ষ টাকা করে ভাতা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (উদ্বোধন) ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনা এবং ক্রীড়া কার্ড প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আগামী এপ্রিল মাস থেকে এই ক্রীড়া ভাতা চালু হচ্ছে। প্রথম ধাপে মোট ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগকে খেলোয়াড়রা ব্যাপকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

নারী ফুটবল দলের তারকা সাবিনা খাতুন এই উদ্যোগকে সব ক্রীড়াবিদের জন্য একটি বিরাট প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে খেলোয়াড়রা প্রথমবারের মতো এমন সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাদের মধ্যে নতুন উৎসাহ জাগিয়ে তুলবে এবং কাজের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেবে।’ এশিয়া কাপে স্বর্ণপদকজয়ী আর্চার হিমু বাছাড় মন্তব্য করেন, ‘ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই খেলাধুলায় আসতে নিরুৎসাহিত হতেন। এখন ক্রীড়াবিদরা ভাতার আওতায় আসায় অনেকেই তাদের পছন্দের খেলা বেছে নিতে পারবেন। এটি একটি দারুণ উদ্যোগ।’

টেবিল টেনিসের তারকা খেলোয়াড় খই খই মারমা তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি যে মাসে এত টাকা বেতন পাব। এটি প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতি তিন-চার মাস পর পর এই ভাতার পরিবর্তন হলে খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। আমরা যারা এই পর্যায়ে এসেছি, তারা আরও ভালো কিছু করার জন্য অনুপ্রাণিত হব।’

বেতনভুক্ত হওয়ায় প্যারা অ্যাথলেট শহীদ উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘চলাফেরা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ অনেক বেশি। খেলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা থেকেই যাই। সরকার আমাদের এই ভাতা দিচ্ছে, এতে আমরা অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’ পদকজয়ী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে নিতে চেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে এবং এর ফলাফলকেও উন্নত করবে। আমরা এখন খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারব, যা আগে সম্ভব ছিল না।’ ব্যাডমিন্টন তারকা আল আমিন জুমা বলেন, ‘আমাদের আর কেবল মৌসুমের উপর নির্ভর করতে হবে না। সরকার আমাদের এমন বড় সম্মাননা দিয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক ভালো ফলাফল রয়েছে, এবং এই ভাতা আমাদের আরও ভালো করার প্রেরণা যোগাবে।’