ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

তারেক রহমানকে নির্যাতন ও খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাবঞ্চিত করার অভিযোগে আফজাল নাছেরের রিমান্ড মঞ্জুর

মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছেরের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আফজাল নাছেরের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

রিমান্ডের পক্ষে শুনানিকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে অভিযোগ করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং আফজাল নাছের সেই নির্যাতন দলের সদস্য ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, আফজাল নাছের রাজনৈতিকভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের দমন ও নির্যাতনে জড়িত ছিলেন এবং মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।

পিপি ফারুকী আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হয়নি। নিরুপায় হয়ে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলেও, ইউনাইটেড গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে আফজাল নাছের তাকে চিকিৎসা নিতে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। বরখাস্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। আফজাল নাছেরকে ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য কাজ করার অভিযোগও আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন জামিনের পক্ষে শুনানি করে বলেন, এই মামলায় আসামির নাম ছাড়া কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, আফজাল নাছের যদি অতীতে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করতেন, তবে তাকে পুরস্কৃত করা হতো, কিন্তু তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি রুটিরুজির জন্য ইউনাইটেড গ্রুপে চাকরি করেন এবং সাত দিনের রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

মামলার সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় অংশগ্রহণকারী দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মামলাটি দায়ের করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিলে সংসদের সিলমোহর: রাজপথে নয়, লড়াই এবার উচ্চ আদালতে?

তারেক রহমানকে নির্যাতন ও খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাবঞ্চিত করার অভিযোগে আফজাল নাছেরের রিমান্ড মঞ্জুর

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছেরের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আফজাল নাছেরের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

রিমান্ডের পক্ষে শুনানিকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে অভিযোগ করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং আফজাল নাছের সেই নির্যাতন দলের সদস্য ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, আফজাল নাছের রাজনৈতিকভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের দমন ও নির্যাতনে জড়িত ছিলেন এবং মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।

পিপি ফারুকী আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হয়নি। নিরুপায় হয়ে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলেও, ইউনাইটেড গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে আফজাল নাছের তাকে চিকিৎসা নিতে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। বরখাস্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। আফজাল নাছেরকে ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য কাজ করার অভিযোগও আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন জামিনের পক্ষে শুনানি করে বলেন, এই মামলায় আসামির নাম ছাড়া কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, আফজাল নাছের যদি অতীতে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করতেন, তবে তাকে পুরস্কৃত করা হতো, কিন্তু তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি রুটিরুজির জন্য ইউনাইটেড গ্রুপে চাকরি করেন এবং সাত দিনের রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

মামলার সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় অংশগ্রহণকারী দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মামলাটি দায়ের করা হয়।