ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ধীপ্রার মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে সিআইডি

চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দিয়েছে আদালত। মামলায় ধীপ্রার চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে অবহেলা, নির্যাতন এবং আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত মামলার আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন—ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশীদ, শ্বশুর ও বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা এবং পরিবারের জামাতা ও ‘ইয়ার্কি’র সম্পাদক সিমু নাসের। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহতের আত্মীয় মো. মশিউর রহমান শাহ আদালতে মামলার আবেদন করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে ধীপ্রা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক চাপ, ডিপ্রেশন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভোগার পরও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পাননি।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২ জুন থেকে টানা তিন দিন ধীপ্রাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় এবং খাবার ও সন্তানের সঙ্গ থেকেও বঞ্চিত করা হয়। ৪ জুন তাঁর মা বাসায় গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করার পর ধীপ্রা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

আরজিতে দাবি করা হয়েছে, মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাব খাটিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

ধীপ্রা মৃত্যুর আগে ‘ফিমেল ডক্টরস ইন বাংলাদেশ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পোস্ট করেছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং নিহতের পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় আইনি পদক্ষেপ নিতে কিছুটা সময় লেগেছে।

এখন আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করলে ধীপ্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও অভিযোগগুলোর সত্যতা উদঘাটনের দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি কিনতে ১৫ কোটি রুপির প্রস্তাব, বিজেপির বিরুদ্ধে সঞ্জয় রাউতের বিস্ফোরক অভিযোগ

ধীপ্রার মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে সিআইডি

আপডেট সময় : ১২:২৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দিয়েছে আদালত। মামলায় ধীপ্রার চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে অবহেলা, নির্যাতন এবং আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত মামলার আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন—ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশীদ, শ্বশুর ও বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা এবং পরিবারের জামাতা ও ‘ইয়ার্কি’র সম্পাদক সিমু নাসের। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহতের আত্মীয় মো. মশিউর রহমান শাহ আদালতে মামলার আবেদন করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে ধীপ্রা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক চাপ, ডিপ্রেশন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভোগার পরও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পাননি।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২ জুন থেকে টানা তিন দিন ধীপ্রাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় এবং খাবার ও সন্তানের সঙ্গ থেকেও বঞ্চিত করা হয়। ৪ জুন তাঁর মা বাসায় গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করার পর ধীপ্রা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

আরজিতে দাবি করা হয়েছে, মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাব খাটিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

ধীপ্রা মৃত্যুর আগে ‘ফিমেল ডক্টরস ইন বাংলাদেশ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পোস্ট করেছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং নিহতের পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় আইনি পদক্ষেপ নিতে কিছুটা সময় লেগেছে।

এখন আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করলে ধীপ্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও অভিযোগগুলোর সত্যতা উদঘাটনের দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।