পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ১৫ দিনের যাতায়াতে দেশের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং ১,০৪৬ জন আহত হয়েছে। বিগত ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রেলপথ ও নৌ-পথসহ সর্বমোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১,২৮৮ জন আহত হওয়ার তথ্য মিলেছে। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন পেশ করেন।
প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, যেখানে ১২৫টি ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চালক, শিশু, পথচারী এবং নারী রয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রকৌশলীর মতো পেশাজীবীরাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। যানবাহনের ধরন অনুযায়ী দুর্ঘটনার ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান এবং ১৬.২২ শতাংশ বাসের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৪৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে এবং এর বড় একটি অংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ ও পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবের কারণে এবারের ঈদযাত্রায় বিশৃঙ্খলা ও ভাড়া নৈরাজ্য বেড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারি ঈদ ব্যবস্থাপনা সভাগুলোতে যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি না রেখে কেবল মালিক সমিতির সুবিধার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিবহন খাত প্রভাবমুক্ত থাকায় ঈদযাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবে মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসায় দুর্ঘটনার হার অতীতের দুটি ঈদের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে কেবল জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালেই গত ১৫ দিনে ২,১৭৮ জন আহত ব্যক্তি ভর্তি হয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























