ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

২১ কোটি টাকায় আধুনিকায়ন, ঢাবি মল চত্বর এখন প্রাণঘাতী ফাঁদ!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মল চত্বরকে আধুনিকায়নের জন্য প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও এটি এখন শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টির পর সেখানে জমে থাকা পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানোর ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

গত বুধবার রাতে সূর্যসেন হল সংলগ্ন মল চত্বরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে নেমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি কুকুর মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পানিতে নামার পরপরই প্রাণীটি কাঁপতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এমনকি তার শরীর থেকে ধোঁয়াও উঠতে দেখা যায়, যা সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, তার চোখের সামনেই কুকুরটি বৈদ্যুতিক শকে মারা যায় এবং শরীর থেকে ধোঁয়া উঠছিল। তিনি নিজেও সেই সময় পানিতে নামতে যাচ্ছিলেন এবং অন্যদেরও নিষেধ করেন। অন্য একজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, কোটি টাকার আলোকসজ্জা এখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে; বাইরে থেকে দেখতে সুন্দর হলেও ভেতরে লুকিয়ে আছে মারাত্মক বিপদ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মল চত্বরের বৈদ্যুতিক লাইন এবং আলোকসজ্জা ব্যবস্থা অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমলেই এই লাইনগুলো থেকে বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুকুর মারা যাওয়ায় প্রশাসনের টনক নড়েনি, মানুষ মারা গেলেই হয়তো তাদের ঘুম ভাঙত এবং তারা ব্যবস্থা নিত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক তারের অপর্যাপ্ত সুরক্ষার কারণে পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় জমে থাকা পানিতে বিদ্যুৎপ্রবাহের আশঙ্কা মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এছাড়া, কিছু ল্যাম্পপোস্ট চুরি হওয়ার কারণে বৈদ্যুতিক তার উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং সেগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত না করে কেবল টেপ দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে, যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মল চত্বরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ পুরো এলাকা আধুনিকায়নে প্রায় ২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের অধীনে আলোকসজ্জা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বসার স্থান এবং নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। তবে, প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি স্পষ্টতই পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের মহোৎসব

২১ কোটি টাকায় আধুনিকায়ন, ঢাবি মল চত্বর এখন প্রাণঘাতী ফাঁদ!

আপডেট সময় : ০১:৪৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মল চত্বরকে আধুনিকায়নের জন্য প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও এটি এখন শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টির পর সেখানে জমে থাকা পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানোর ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

গত বুধবার রাতে সূর্যসেন হল সংলগ্ন মল চত্বরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে নেমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি কুকুর মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পানিতে নামার পরপরই প্রাণীটি কাঁপতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এমনকি তার শরীর থেকে ধোঁয়াও উঠতে দেখা যায়, যা সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, তার চোখের সামনেই কুকুরটি বৈদ্যুতিক শকে মারা যায় এবং শরীর থেকে ধোঁয়া উঠছিল। তিনি নিজেও সেই সময় পানিতে নামতে যাচ্ছিলেন এবং অন্যদেরও নিষেধ করেন। অন্য একজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, কোটি টাকার আলোকসজ্জা এখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে; বাইরে থেকে দেখতে সুন্দর হলেও ভেতরে লুকিয়ে আছে মারাত্মক বিপদ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মল চত্বরের বৈদ্যুতিক লাইন এবং আলোকসজ্জা ব্যবস্থা অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমলেই এই লাইনগুলো থেকে বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুকুর মারা যাওয়ায় প্রশাসনের টনক নড়েনি, মানুষ মারা গেলেই হয়তো তাদের ঘুম ভাঙত এবং তারা ব্যবস্থা নিত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক তারের অপর্যাপ্ত সুরক্ষার কারণে পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় জমে থাকা পানিতে বিদ্যুৎপ্রবাহের আশঙ্কা মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এছাড়া, কিছু ল্যাম্পপোস্ট চুরি হওয়ার কারণে বৈদ্যুতিক তার উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং সেগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত না করে কেবল টেপ দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে, যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মল চত্বরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ পুরো এলাকা আধুনিকায়নে প্রায় ২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের অধীনে আলোকসজ্জা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বসার স্থান এবং নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। তবে, প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি স্পষ্টতই পরিলক্ষিত হচ্ছে।