ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ক্রীড়াবিদদের পেশাগত স্বীকৃতি: প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন বেতনকাঠামো ও ক্রীড়া কার্ড

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। খেলাধুলাকে কেবল শখ বা নিছক বিনোদন হিসেবে না দেখে, এটিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ‘পেশা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বেতনকাঠামো এবং ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদানের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই অঙ্গীকার নিয়ে সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে আমূল বদলে দিতে চায়। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ক্রীড়া দর্শনের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনিই আধুনিক ক্রীড়াকাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাকে আরও উন্নত করে দেশের প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভার অন্বেষণ শুরু হবে। এছাড়া, ২০২৭ সাল থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ‘ক্রীড়া কার্ড’ একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বর্ম হিসেবে কাজ করবে। তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার ও শিক্ষক নিয়োগের জন্য পদ সৃজনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়া, বিভাগীয় শহরগুলোর সাতটি বিকেএসপি শাখাকে পূর্ণাঙ্গ বিকেএসপিতে রূপান্তরের মাধ্যমে ঢাকার ওপর চাপ কমিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গৌরব বয়ে আনা মোট ১২৯ জন স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ক্রীড়াবিদকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কারের চেক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে একক পর্যায়ে স্বর্ণজয়ীদের ৩ লাখ টাকা, রৌপ্য পদক বিজয়ীদের ২ লাখ এবং ব্রোঞ্চ জয়ীদের ১ লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রেণিকক্ষ বনাম কোচিং: একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার সন্ধানে

ক্রীড়াবিদদের পেশাগত স্বীকৃতি: প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন বেতনকাঠামো ও ক্রীড়া কার্ড

আপডেট সময় : ১২:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। খেলাধুলাকে কেবল শখ বা নিছক বিনোদন হিসেবে না দেখে, এটিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ‘পেশা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বেতনকাঠামো এবং ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদানের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই অঙ্গীকার নিয়ে সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে আমূল বদলে দিতে চায়। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ক্রীড়া দর্শনের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনিই আধুনিক ক্রীড়াকাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাকে আরও উন্নত করে দেশের প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভার অন্বেষণ শুরু হবে। এছাড়া, ২০২৭ সাল থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ‘ক্রীড়া কার্ড’ একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বর্ম হিসেবে কাজ করবে। তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার ও শিক্ষক নিয়োগের জন্য পদ সৃজনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়া, বিভাগীয় শহরগুলোর সাতটি বিকেএসপি শাখাকে পূর্ণাঙ্গ বিকেএসপিতে রূপান্তরের মাধ্যমে ঢাকার ওপর চাপ কমিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গৌরব বয়ে আনা মোট ১২৯ জন স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ক্রীড়াবিদকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কারের চেক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে একক পর্যায়ে স্বর্ণজয়ীদের ৩ লাখ টাকা, রৌপ্য পদক বিজয়ীদের ২ লাখ এবং ব্রোঞ্চ জয়ীদের ১ লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়।