ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

লেনদেন ভারসাম্য রক্ষায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি সহায়তার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে লেনদেন ভারসাম্য বা ব্যালেন্স অব পেমেন্ট স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি সহায়তা নেওয়ার বড় ধরনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার কাছ থেকে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ বা সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

গত রবিবার ২৯ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে অর্থনীতি বিষয়ক বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন। উক্ত সভায় ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, মো. হাবিবুর রহমান, জাকির হোসেন চৌধুরী, মো. কবীর আহমেদ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন যারা দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

গভর্নর সভায় স্পষ্ট করেন যে লেনদেন ভারসাম্য রক্ষায় ২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আইএমএফের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং অন্যান্য সম্ভাব্য উৎস থেকেও অর্থ সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বা ইআরডি কাজ করে যাচ্ছে। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার কারণে প্রবাসী আয় এবং বিদেশে নতুন কর্মসংস্থানে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান যে আপাতত রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে যে চলতি অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২ থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেতে পারে যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত তিনটি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে যার মধ্যে রয়েছে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা। গভর্নর তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো প্রকৃতপক্ষে জাতীয় সম্পদ এবং এগুলোকে সচল করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয় যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করছে।

আগামী জুলাই মাস থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে সভায় জানানো হয়। একই সাথে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করা, বড় খেলাপি ঋণের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসার এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর গভর্নর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস ইরানের

লেনদেন ভারসাম্য রক্ষায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি সহায়তার পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ১২:২৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে লেনদেন ভারসাম্য বা ব্যালেন্স অব পেমেন্ট স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি সহায়তা নেওয়ার বড় ধরনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার কাছ থেকে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ বা সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

গত রবিবার ২৯ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে অর্থনীতি বিষয়ক বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন। উক্ত সভায় ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, মো. হাবিবুর রহমান, জাকির হোসেন চৌধুরী, মো. কবীর আহমেদ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন যারা দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

গভর্নর সভায় স্পষ্ট করেন যে লেনদেন ভারসাম্য রক্ষায় ২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আইএমএফের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং অন্যান্য সম্ভাব্য উৎস থেকেও অর্থ সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বা ইআরডি কাজ করে যাচ্ছে। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার কারণে প্রবাসী আয় এবং বিদেশে নতুন কর্মসংস্থানে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান যে আপাতত রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে যে চলতি অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২ থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেতে পারে যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত তিনটি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে যার মধ্যে রয়েছে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা। গভর্নর তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো প্রকৃতপক্ষে জাতীয় সম্পদ এবং এগুলোকে সচল করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয় যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করছে।

আগামী জুলাই মাস থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে সভায় জানানো হয়। একই সাথে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করা, বড় খেলাপি ঋণের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসার এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর গভর্নর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।