ঢাকা ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার: ১৩ দিনে ১৭ জেলায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারে লিপ্ত হয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লোটার এই অপতৎপরতা বন্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ১৭ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১৩ দিনের অভিযানে দেশের ১৭টি জেলায় অবৈধভাবে তেল মজুতের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করার দায়ে বেশ কিছু জেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম মহানগর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, পাবনা, জামালপুর, বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল ও গাজীপুরে অবৈধ মজুতের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও ফরিদপুরের একাধিক স্থানে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে। পুলিশের এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে বেশ কিছু বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে। গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর চৌধুরীর গুদামে অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করে পুলিশ। অন্যদিকে, ফরিদপুর সদরের হোসেন ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে ‘পেট্রল নেই’ লিখে বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে রাখা হয়। কৃত্রিম এই সংকট তৈরির দায়ে ওই প্রতিষ্ঠান মালিককে মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নেত্রকোনার হাটখলা বাজারে মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ কোনো লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে পেট্রোল মজুত করে চড়া দামে বিক্রি করছিল। সেখান থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের কেবল অবৈধ মজুতই নয়, প্রতিবেশী দেশে পাচারের মতো গুরুতর ঘটনাও সামনে আসছে। গত ২৮ মার্চ কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ডিজেল, আলকাতরা ও ইঞ্জিনসহ পাচারকারী চক্রের সদস্যদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। জ্বালানি পাচারের অভিযোগে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে সরকার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে অনিয়ম তদারকির জন্য একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করেছে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, যারা অবৈধ মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস ইরানের

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার: ১৩ দিনে ১৭ জেলায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

আপডেট সময় : ১২:১০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারে লিপ্ত হয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লোটার এই অপতৎপরতা বন্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ১৭ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১৩ দিনের অভিযানে দেশের ১৭টি জেলায় অবৈধভাবে তেল মজুতের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করার দায়ে বেশ কিছু জেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম মহানগর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, পাবনা, জামালপুর, বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল ও গাজীপুরে অবৈধ মজুতের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও ফরিদপুরের একাধিক স্থানে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে। পুলিশের এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে বেশ কিছু বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে। গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর চৌধুরীর গুদামে অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করে পুলিশ। অন্যদিকে, ফরিদপুর সদরের হোসেন ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে ‘পেট্রল নেই’ লিখে বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে রাখা হয়। কৃত্রিম এই সংকট তৈরির দায়ে ওই প্রতিষ্ঠান মালিককে মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নেত্রকোনার হাটখলা বাজারে মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ কোনো লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে পেট্রোল মজুত করে চড়া দামে বিক্রি করছিল। সেখান থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের কেবল অবৈধ মজুতই নয়, প্রতিবেশী দেশে পাচারের মতো গুরুতর ঘটনাও সামনে আসছে। গত ২৮ মার্চ কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ডিজেল, আলকাতরা ও ইঞ্জিনসহ পাচারকারী চক্রের সদস্যদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। জ্বালানি পাচারের অভিযোগে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে সরকার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে অনিয়ম তদারকির জন্য একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করেছে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, যারা অবৈধ মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।