ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

অলিম্পিকে হরমোন পরীক্ষা: নারী ক্রীড়াবিদদের অসম্মানের নতুন অধ্যায়?

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) কর্তৃক ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক থেকে নারী ক্রীড়াবিদদের হরমোন পরীক্ষার মাধ্যমে লিঙ্গ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দুইবারের অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী কাস্টার সেমেনইয়া এই সিদ্ধান্তকে নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য চরম অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি থাকা সত্ত্বেও একজন নারী হিসেবে খেলার যোগ্যতা প্রমাণের জন্য তাকে বারবার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক, বিশেষ করে আফ্রিকান নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য যারা এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন বেশি।

আইওসির এই সিদ্ধান্ত নতুন নয়। অতীতে, ১৯৬৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অলিম্পিকে নারী ক্রীড়াবিদদের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য ক্রোমোজোম পরীক্ষা করা হতো। যদিও বিভিন্ন চাপের মুখে আইওসি সেই প্রথা থেকে সরে এসেছিল, তবে এবার হরমোন পরীক্ষার মাধ্যমে পুনরায় সেই বিতর্কিত পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেমেনইয়ার মতে, এই পরীক্ষা একজন নারীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং খেলাধুলায় অংশগ্রহণের জন্য তাদের প্রমাণ করতে হয় যে তারা নারী, যা অত্যন্ত অপমানজনক।

কাস্টার সেমেনইয়া নিজেও বেশি টেস্টোস্টেরন থাকার কারণে দীর্ঘ সংগ্রামের সম্মুখীন হয়েছেন। ২০০৯ সালে ৮০০ মিটার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজের অধিকার আদায়ের জন্য তাকে আইনি লড়াই পর্যন্ত লড়তে হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা তাকে নারী ক্রীড়াবিদদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর আইওসির এই নতুন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নারী ক্রীড়াবিদদের সম্মান ও অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ২৩৮ ইরানি নাবিক

অলিম্পিকে হরমোন পরীক্ষা: নারী ক্রীড়াবিদদের অসম্মানের নতুন অধ্যায়?

আপডেট সময় : ০৮:২৯:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) কর্তৃক ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক থেকে নারী ক্রীড়াবিদদের হরমোন পরীক্ষার মাধ্যমে লিঙ্গ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দুইবারের অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী কাস্টার সেমেনইয়া এই সিদ্ধান্তকে নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য চরম অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি থাকা সত্ত্বেও একজন নারী হিসেবে খেলার যোগ্যতা প্রমাণের জন্য তাকে বারবার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক, বিশেষ করে আফ্রিকান নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য যারা এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন বেশি।

আইওসির এই সিদ্ধান্ত নতুন নয়। অতীতে, ১৯৬৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অলিম্পিকে নারী ক্রীড়াবিদদের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য ক্রোমোজোম পরীক্ষা করা হতো। যদিও বিভিন্ন চাপের মুখে আইওসি সেই প্রথা থেকে সরে এসেছিল, তবে এবার হরমোন পরীক্ষার মাধ্যমে পুনরায় সেই বিতর্কিত পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেমেনইয়ার মতে, এই পরীক্ষা একজন নারীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং খেলাধুলায় অংশগ্রহণের জন্য তাদের প্রমাণ করতে হয় যে তারা নারী, যা অত্যন্ত অপমানজনক।

কাস্টার সেমেনইয়া নিজেও বেশি টেস্টোস্টেরন থাকার কারণে দীর্ঘ সংগ্রামের সম্মুখীন হয়েছেন। ২০০৯ সালে ৮০০ মিটার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজের অধিকার আদায়ের জন্য তাকে আইনি লড়াই পর্যন্ত লড়তে হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা তাকে নারী ক্রীড়াবিদদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর আইওসির এই নতুন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নারী ক্রীড়াবিদদের সম্মান ও অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।