কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন ১৩ জন বাংলাদেশি জেলে। শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন এলাকা থেকে তিনটি মাছ ধরার নৌকাসহ তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় জেলে পরিবার ও নৌকা মালিকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত শনিবার (২৭ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচর সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত জেলেরা হলেন: মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের (৪০), মো. আবদুল খালেক এবং মো. জাবের মিয়া (২৪)। তারা সবাই টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া ও ডাংঙ্গরপাড়ার বাসিন্দা।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুল মান্নান জানান, সকালে মাছ ধরার সময় শাহপরীর দ্বীপের তিনটি নৌকাসহ ১৩ বাংলাদেশি জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে গেছে। তার মতে, তাদের কারণে নাফ নদী ও সাগরে মাছ ধরা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং এভাবে চলতে থাকলে জেলে ও নৌকার মালিকদের দুর্দিন নেমে আসবে।
শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর জানান, ভোর ৪টার দিকে কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মাছ ধরতে যায়। সকাল ৭টার দিকে স্পিডবোটে এসে অস্ত্রের মুখে তিনটি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। বিষয়টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম সাংবাদিকদের জানান, নৌকাসহ কিছু জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা স্থানীয়ভাবে জেনেছেন। তবে জেলে পরিবার বা নৌকার মালিকদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, জেলেদের দ্রুত ফিরিয়ে আনতে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজিবি ও স্থানীয় জেলে সূত্রগুলো বলছে, বিগত দেড় বছরে বিভিন্ন সময়ে চার শতাধিক জেলেকে সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে গেছে। এদের মধ্যে প্রায় আড়াই শতাধিক জেলেকে বিজিবির প্রচেষ্টায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলে আরাকান আর্মির কবল থেকে ফিরে এসেছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























