ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মোংলায় মিরাজ শেখ ‘গুম’: কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল আসক

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখকে (৩০) ‘গুমের’ যে অভিযোগ উঠেছে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে, তার জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মিরাজ নিখোঁজ হওয়ার পর আসক মাঠ পর্যায়ে তদন্ত পরিচালনা করে।

বুধবার আসকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা মিরাজকে আটক করেনি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গত ১৬ ও ১৭ মে সরেজমিনে প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারে যে, বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনির ঘোল এলাকায় স্থানীয় জেলে ও ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক মিরাজ শেখকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আসকের সদস্যরা ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক, পুলিশ ও কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতেও আসক ঘটনাটির অনুসরণ অব্যাহত রেখেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য এবং একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ধারাবাহিক ও সুনির্দিষ্টভাবে দাবি করেছেন যে, ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সাদা পোশাকে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্য পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি জয়মনির ঘোল এলাকার আল আমিনের চায়ের দোকানের সামনে থেকে মিরাজ শেখকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পরে তাকে কোস্ট গার্ডের একটি স্পিডবোটে তোলা হয়, যেখানে পোশাক পরিহিত আরও ৭-৮ জন কোস্ট গার্ড সদস্য অবস্থান করছিলেন। ভুক্তভোগীর স্ত্রীও দাবি করেছেন যে, তিনি হারবারিয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের পন্টুনে নিজের চোখে তার স্বামীকে কোস্ট গার্ড সদস্যদের হেফাজতে দেখতে পান এবং পরে তাকে স্পিডবোটে করে নিয়ে যেতে দেখেন।

ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত মিরাজ শেখের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ, তাকে কোনো আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি, পুলিশের কাছেও সোপর্দ করা হয়নি এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কেও পরিবারকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মিরাজ শেখকে আটক বা হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। মোংলা থানার তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের হলেও কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মিরাজ শেখকে আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে থানাকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, ১০ এপ্রিলের ঘটনার পর একাধিকবার থানায় গেলেও সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়নি এবং পরে আদালতের নির্দেশে জিডিটি রেকর্ড করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গরু নিলাম ঘিরে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের হাতাহাতি, অভিযোগ দায়ের

মোংলায় মিরাজ শেখ ‘গুম’: কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল আসক

আপডেট সময় : ১১:৩৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখকে (৩০) ‘গুমের’ যে অভিযোগ উঠেছে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে, তার জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মিরাজ নিখোঁজ হওয়ার পর আসক মাঠ পর্যায়ে তদন্ত পরিচালনা করে।

বুধবার আসকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা মিরাজকে আটক করেনি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গত ১৬ ও ১৭ মে সরেজমিনে প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারে যে, বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনির ঘোল এলাকায় স্থানীয় জেলে ও ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক মিরাজ শেখকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আসকের সদস্যরা ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক, পুলিশ ও কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতেও আসক ঘটনাটির অনুসরণ অব্যাহত রেখেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য এবং একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ধারাবাহিক ও সুনির্দিষ্টভাবে দাবি করেছেন যে, ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সাদা পোশাকে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্য পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি জয়মনির ঘোল এলাকার আল আমিনের চায়ের দোকানের সামনে থেকে মিরাজ শেখকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পরে তাকে কোস্ট গার্ডের একটি স্পিডবোটে তোলা হয়, যেখানে পোশাক পরিহিত আরও ৭-৮ জন কোস্ট গার্ড সদস্য অবস্থান করছিলেন। ভুক্তভোগীর স্ত্রীও দাবি করেছেন যে, তিনি হারবারিয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের পন্টুনে নিজের চোখে তার স্বামীকে কোস্ট গার্ড সদস্যদের হেফাজতে দেখতে পান এবং পরে তাকে স্পিডবোটে করে নিয়ে যেতে দেখেন।

ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত মিরাজ শেখের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ, তাকে কোনো আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি, পুলিশের কাছেও সোপর্দ করা হয়নি এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কেও পরিবারকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মিরাজ শেখকে আটক বা হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। মোংলা থানার তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের হলেও কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মিরাজ শেখকে আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে থানাকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, ১০ এপ্রিলের ঘটনার পর একাধিকবার থানায় গেলেও সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়নি এবং পরে আদালতের নির্দেশে জিডিটি রেকর্ড করা হয়।