ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মেঘনার গ্রাসে সরাইলের পানিশ্বর: তিন যুগেও মেলেনি স্থায়ী বাঁধ, বাড়ছে ভাঙন আতঙ্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন এখন স্থানীয়দের নিত্যদিনের সঙ্গী। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বর্ষা এলেই নদীগর্ভে বিলীন হয় বসতভিটা, ফসলি জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তবে এত বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ। ফলে প্রতি বছরই নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পানিশ্বর ইউনিয়নের পালপাড়া, সাখাইতি, দেওবাড়িয়া ও লায়ারহাটি এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। এরই মধ্যে ২০টিরও বেশি চাতালকল এবং শতাধিক ঘরবাড়ি মেঘনায় তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘস্থায়ী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা আজ দিশেহারা। অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে পুরো ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকদের মতে, এক সময় পানিশ্বর ছিল সরাইলের অন্যতম সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চল। চাতালকল ও অটো রাইস মিলকে কেন্দ্র করে এখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ছিল। কিন্তু নদীভাঙনে সেই ঐতিহ্য এখন ধ্বংসের মুখে। পানিশ্বর বাজারের দুই পাশে থাকা স্কুল-কলেজ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ভাঙনের তীব্রতা বাড়ার পেছনে অবৈধ বালু উত্তোলনকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে ভৈরব ও আশপাশের এলাকা থেকে ড্রেজার এনে রাতের আঁধারে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দ্রুত এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের পরেই তেহরানের কৌশলগত পরিবর্তন, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

মেঘনার গ্রাসে সরাইলের পানিশ্বর: তিন যুগেও মেলেনি স্থায়ী বাঁধ, বাড়ছে ভাঙন আতঙ্ক

আপডেট সময় : ১২:০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন এখন স্থানীয়দের নিত্যদিনের সঙ্গী। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বর্ষা এলেই নদীগর্ভে বিলীন হয় বসতভিটা, ফসলি জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তবে এত বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ। ফলে প্রতি বছরই নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পানিশ্বর ইউনিয়নের পালপাড়া, সাখাইতি, দেওবাড়িয়া ও লায়ারহাটি এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। এরই মধ্যে ২০টিরও বেশি চাতালকল এবং শতাধিক ঘরবাড়ি মেঘনায় তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘস্থায়ী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা আজ দিশেহারা। অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে পুরো ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকদের মতে, এক সময় পানিশ্বর ছিল সরাইলের অন্যতম সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চল। চাতালকল ও অটো রাইস মিলকে কেন্দ্র করে এখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ছিল। কিন্তু নদীভাঙনে সেই ঐতিহ্য এখন ধ্বংসের মুখে। পানিশ্বর বাজারের দুই পাশে থাকা স্কুল-কলেজ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ভাঙনের তীব্রতা বাড়ার পেছনে অবৈধ বালু উত্তোলনকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে ভৈরব ও আশপাশের এলাকা থেকে ড্রেজার এনে রাতের আঁধারে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দ্রুত এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।