২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় আহত ছাত্র-জনতার চিকিৎসা সেবা বন্ধ করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনকালে চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন কোনো আন্দোলনকারীকে চিকিৎসা দেওয়া না হয় এবং তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দিয়ে আটকে রাখা হয়।
তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটরের দেওয়া তথ্যমতে, শেখ হাসিনা মিরপুরে মেট্রোরেল পরিদর্শনে গিয়ে কান্নাকাটি করলেও হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরানো শিক্ষার্থীদের প্রতি ছিলেন চরম নিষ্ঠুর। পঙ্গু হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তিনি ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’ নীতি কার্যকর করার আদেশ দেন। এর মাধ্যমে মূলত হাসপাতালগুলোকে অস্থায়ী কারাগারে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই অমানবিক নির্দেশনার সপক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য তাদের হাতে রয়েছে। এছাড়া শহীদদের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট ও ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে জালিয়াতির যে অভিযোগ তৎকালীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠেছিল, সেগুলোও বর্তমানে নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে এসে এসব লোমহর্ষক তথ্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























