ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে আরসা কমান্ডার নিহত, গ্রেপ্তার ২

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে প্রতিপক্ষ সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের সরাসরি গুলিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) এক চিহ্নিত কমান্ডার নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ত্রিশে জুলাই দিবাগত শেষরাতে ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের এইচ-২৯ ব্লকে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। নিহতের নাম মো. জুবায়ের (৩৪)। তিনি উখিয়ার ওই ক্যাম্পের রহমত উল্লাহর ছেলে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র ক্যাম্প এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্যাম্পের সার্বিক সুরক্ষায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোররাতের দিকে জুবায়ের তার নিজ বাসা থেকে বের হয়ে ক্যাম্পের এইচ-২৯ ব্লকের একটি মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ইব্রাহিম নামের স্থানীয় এক অধিবাসীর বসতঘরের সামনে পৌঁছামাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কাছ থেকে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে জুবায়ের মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জুবায়েরকে উদ্ধার করে ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টে অবস্থিত নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্যাম্পের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং মূল চক্রকে ধরতে গ্রেপ্তারকৃতদের নাম-পরিচয় আপাতত গোপন রাখা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

প্রাথমিক গোপন তথ্যের বরাতে এপিবিএন কর্মকর্তা আরও জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী—আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বিভক্তির জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে শক্ত ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অত্যন্ত ভোররাতে ওই নির্জন স্থানে নিহতের উপস্থিতি ও আনাগোনাও পুলিশের কাছে যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তারে ক্যাম্পে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্দোলন সফল হতেই বদলে গেল জীবন, অভিজিৎ দিপকের জন্য একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে আরসা কমান্ডার নিহত, গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ১২:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে প্রতিপক্ষ সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের সরাসরি গুলিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) এক চিহ্নিত কমান্ডার নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ত্রিশে জুলাই দিবাগত শেষরাতে ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের এইচ-২৯ ব্লকে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। নিহতের নাম মো. জুবায়ের (৩৪)। তিনি উখিয়ার ওই ক্যাম্পের রহমত উল্লাহর ছেলে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র ক্যাম্প এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্যাম্পের সার্বিক সুরক্ষায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোররাতের দিকে জুবায়ের তার নিজ বাসা থেকে বের হয়ে ক্যাম্পের এইচ-২৯ ব্লকের একটি মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ইব্রাহিম নামের স্থানীয় এক অধিবাসীর বসতঘরের সামনে পৌঁছামাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কাছ থেকে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে জুবায়ের মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জুবায়েরকে উদ্ধার করে ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টে অবস্থিত নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্যাম্পের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং মূল চক্রকে ধরতে গ্রেপ্তারকৃতদের নাম-পরিচয় আপাতত গোপন রাখা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

প্রাথমিক গোপন তথ্যের বরাতে এপিবিএন কর্মকর্তা আরও জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী—আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বিভক্তির জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে শক্ত ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অত্যন্ত ভোররাতে ওই নির্জন স্থানে নিহতের উপস্থিতি ও আনাগোনাও পুলিশের কাছে যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তারে ক্যাম্পে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।