বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিকে ঘিরে হঠাৎ করেই জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাতের পর রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের ক্যালেন্ডার ও রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আগামী ২৫ আগস্টকে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করে অভ্যন্তরীণ সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে আভাস মিলছে।
সম্প্রতি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পরপরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মূল আইনি প্রক্রিয়া ও সময়সীমা নিয়ে কাজ শুরু করে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনারদের একটি প্রতিনিধিদল ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য আগস্টের ২৫ তারিখ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যবর্তী যেকোনো একটি দিন বেছে নেওয়ার বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব ওঠে। তবে সিইসিসহ অধিকাংশ কমিশনার ২৫ আগস্টেই ভোটগ্রহণের জন্য প্রবল মতামত ব্যক্ত করেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারও ইসির এই যৌক্তিক প্রস্তাবে কোনো দ্বিমত পোষণ করেননি। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সংসদ নির্বাচনের মতো করেই একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও সময়ের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। আইন অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ও প্রত্যাহারের জন্য পৃথক দিন ধার্য থাকবে। যদি বাছাইয়ের দিনে একক বৈধ প্রার্থী থাকেন তবে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থেকে গেলে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদ ভবনের কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আইনি বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে স্পষ্ট করা হয় যে, দেশের সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার বা পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই বাধ্যতামূলকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করতে হয়। উক্ত অনুচ্ছেদ ও বিধান অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করতেই ইসি ২৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের সূচি নির্ধারণ করছে। বিশেষ এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিজেই মূল রিটার্নিং কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।
বর্তমানে সংসদে প্রধান রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের ওপরই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন অনেকাংশে নির্ভর করছে। রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতির দৌড় এবং নাম নিয়ে একাধিক গুঞ্জন চালু থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী চয়ন বা ঘোষণার বিষয়ে দলগুলো এখনো হিসাব-নিকাশ করছে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা নিজেদের কারিগরি ও আইনি দিক থেকে শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে। রাজনৈতিক দল বা সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত প্রস্তাব আকারে পাওয়ামাত্রই ইসি ভোটের সব আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন রাষ্ট্রপতির নাম ঘোষণা করবে।
রিপোর্টারের নাম 






















