চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত সন্ত্রাসী এবং বড় সাজ্জাদ বাহিনীর কিলিং স্কোয়াডপ্রধান হিসেবে পরিচিত রায়হান আলমকে ধরতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাসাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার পরও তিনি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রংমারা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেয় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল। স্থানীয় পুলিশও এতে সহযোগিতা করে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বুধবার রাত ১১টার দিকে আমার দেশকে জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে কোম্পানীগঞ্জে আসে। যাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হয়েছিল, তিনি শেষ মুহূর্তে পালিয়ে যান।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরুল হাকিম জানান, রংমারা এলাকার একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন রায়হান আলম। তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। কিন্তু অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে তিনি ভবনের ছাদে উঠে যান এবং সেখান থেকে লাফ দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের দাবি, রায়হান আলমের অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই তথ্য যাচাই করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে পালিয়ে যাওয়ার পর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রায়হান আলমকে খুব কাছাকাছি গিয়েও ধরা সম্ভব হয়নি। তিনি অল্পের জন্য পালিয়ে গেছেন। তবে তার অবস্থান সম্পর্কে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের ভাষ্য, রায়হান আলম বর্তমানে বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রামে বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। তাকে বাহিনীর কিলিং স্কোয়াডপ্রধান হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রায়হান আলমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক মাসুদ হত্যা মামলাসহ কয়েকটি আলোচিত মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















