ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

রমজানের রোজা ভঙ্গের কাফফারা: নিয়ম ও আদায় পদ্ধতি

রমজান মাসের রোজা প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ফরজ। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন অসুস্থতা বা সফরে থাকলে রমজানে রোজা ভেঙে পরবর্তীতে কাজা করার সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)

যদি কেউ সফর, অসুস্থতা বা এ ধরনের কোনো গ্রহণযোগ্য শরঈ কারণে রমজানের রোজা রেখেও ভেঙে ফেলে, তাহলে তার ওপর কেবল ওই রোজার কাজা ওয়াজিব হয়, অর্থাৎ ওই রোজাটির পরিবর্তে আরেকটি রোজা রাখতে হয়।

তবে, রমজানের রোজা রেখে যদি কেউ গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করে বা যৌনমিলন করে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে তার ওপর কাজা ওয়াজিব হওয়ার পাশাপাশি কাফফারাও ওয়াজিব হয়।

রোজা ভঙ্গের কাফফারা আদায়ের একটি পদ্ধতি হলো, ধারাবাহিকভাবে (মাঝে কোনো রোজা না ভেঙে) ৬০ দিন রোজা রাখা। যদি ৬০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো রোজা ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। এভাবে কাফফারা আদায়ের নিয়তে ৬০ দিন লাগাতার রোজা রাখতে পারলে রোজা ভঙ্গের কাফফারা আদায় হয়ে যায়।

কেউ যদি এভাবে ৬০ দিন রোজা রেখে কাফফারা আদায় করতে অক্ষম হন, তার জন্য কাফফারা আদায়ের দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ৬০ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুই বেলা পেটপুরে আহার করানো অথবা ৬০ জন দরিদ্র ব্যক্তির দুই বেলার খাবারের সমপরিমাণ মূল্য দান করে দেওয়া। একজনের দুই বেলার খাবারের মূল্য হিসাব করা হয় সদকায়ে ফিতরের পরিমাণ অনুযায়ী। উদাহরণস্বরূপ, এ বছর সদকায়ে ফিতরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ছিল ১১০ টাকা। সেক্ষেত্রে, একজনের দুই বেলার খাবারের মূল্য ১১০ টাকা হলে ৬০ জনের দুই বেলার খাবারের মূল্য দাঁড়ায় ৬৬০০ টাকা। কেউ যদি কাফফারা আদায়ের নিয়তে সর্বনিম্ন ৬৬০০ টাকা দান করে দেন, তাহলে তার কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।

রোজা ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত এবং ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। কোনো অসুস্থতা, অসুবিধা বা অবহেলায় রোজা ছুটে গেলে দ্রুততম সময়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ওই রোজার কাজা আদায় করা এবং কাফফারা ওয়াজিব হলে তা আদায় করা জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনই আমাদের মূল লক্ষ্য: টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী

রমজানের রোজা ভঙ্গের কাফফারা: নিয়ম ও আদায় পদ্ধতি

আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

রমজান মাসের রোজা প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ফরজ। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন অসুস্থতা বা সফরে থাকলে রমজানে রোজা ভেঙে পরবর্তীতে কাজা করার সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)

যদি কেউ সফর, অসুস্থতা বা এ ধরনের কোনো গ্রহণযোগ্য শরঈ কারণে রমজানের রোজা রেখেও ভেঙে ফেলে, তাহলে তার ওপর কেবল ওই রোজার কাজা ওয়াজিব হয়, অর্থাৎ ওই রোজাটির পরিবর্তে আরেকটি রোজা রাখতে হয়।

তবে, রমজানের রোজা রেখে যদি কেউ গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করে বা যৌনমিলন করে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে তার ওপর কাজা ওয়াজিব হওয়ার পাশাপাশি কাফফারাও ওয়াজিব হয়।

রোজা ভঙ্গের কাফফারা আদায়ের একটি পদ্ধতি হলো, ধারাবাহিকভাবে (মাঝে কোনো রোজা না ভেঙে) ৬০ দিন রোজা রাখা। যদি ৬০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো রোজা ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। এভাবে কাফফারা আদায়ের নিয়তে ৬০ দিন লাগাতার রোজা রাখতে পারলে রোজা ভঙ্গের কাফফারা আদায় হয়ে যায়।

কেউ যদি এভাবে ৬০ দিন রোজা রেখে কাফফারা আদায় করতে অক্ষম হন, তার জন্য কাফফারা আদায়ের দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ৬০ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুই বেলা পেটপুরে আহার করানো অথবা ৬০ জন দরিদ্র ব্যক্তির দুই বেলার খাবারের সমপরিমাণ মূল্য দান করে দেওয়া। একজনের দুই বেলার খাবারের মূল্য হিসাব করা হয় সদকায়ে ফিতরের পরিমাণ অনুযায়ী। উদাহরণস্বরূপ, এ বছর সদকায়ে ফিতরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ছিল ১১০ টাকা। সেক্ষেত্রে, একজনের দুই বেলার খাবারের মূল্য ১১০ টাকা হলে ৬০ জনের দুই বেলার খাবারের মূল্য দাঁড়ায় ৬৬০০ টাকা। কেউ যদি কাফফারা আদায়ের নিয়তে সর্বনিম্ন ৬৬০০ টাকা দান করে দেন, তাহলে তার কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।

রোজা ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত এবং ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। কোনো অসুস্থতা, অসুবিধা বা অবহেলায় রোজা ছুটে গেলে দ্রুততম সময়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ওই রোজার কাজা আদায় করা এবং কাফফারা ওয়াজিব হলে তা আদায় করা জরুরি।