ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জে ৫০ টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা: হাসপাতালে অটোরিকশা চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অটোরিকশা চার্জের মাত্র ৫০ টাকা পাওনা নিয়ে মারধরের শিকার হয়ে এক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে ওই চালক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত ইমরান হোসেন (১৬) দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। তিনি গত আট-নয় বছর ধরে সপরিবারে জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

গত ২৪ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সৈয়দপুর (ঈশানকোনা) এলাকার বাদশাহ মিয়ার গ্যারেজে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে অটোরিকশা চার্জের ৫০ টাকা কম দিতে চাইলে গ্যারেজ মালিক বাদশাহ এবং তার সহযোগী জাকির উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

একপর্যায়ে তারা রিকশার জিআই পাইপ, মুগুর ও সুপারি গাছের কঞ্চি দিয়ে ইমরানকে বেধড়ক মারধর করেন। প্রচণ্ড আঘাতে ইমরান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ অভিযুক্ত জাকিরকে (৩৫) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত গ্যারেজ মালিক বাদশাহ মিয়া এখনো পলাতক রয়েছেন। ধৃত জাকির সৈয়দপুর (ঈশানকোনা) এলাকার মৃত আব্দুর রূপের ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লাকু মিয়া ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, তিনি বারবার বারণ করা সত্ত্বেও কিশোরটিকে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। নিহতের চাচা আকিদ আলী এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের ধীরগতিতে আইএমএফের কিস্তি স্থগিত, বাংলাদেশের ঋণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

সুনামগঞ্জে ৫০ টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা: হাসপাতালে অটোরিকশা চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৩:০২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অটোরিকশা চার্জের মাত্র ৫০ টাকা পাওনা নিয়ে মারধরের শিকার হয়ে এক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে ওই চালক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত ইমরান হোসেন (১৬) দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। তিনি গত আট-নয় বছর ধরে সপরিবারে জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

গত ২৪ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সৈয়দপুর (ঈশানকোনা) এলাকার বাদশাহ মিয়ার গ্যারেজে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে অটোরিকশা চার্জের ৫০ টাকা কম দিতে চাইলে গ্যারেজ মালিক বাদশাহ এবং তার সহযোগী জাকির উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

একপর্যায়ে তারা রিকশার জিআই পাইপ, মুগুর ও সুপারি গাছের কঞ্চি দিয়ে ইমরানকে বেধড়ক মারধর করেন। প্রচণ্ড আঘাতে ইমরান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ অভিযুক্ত জাকিরকে (৩৫) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত গ্যারেজ মালিক বাদশাহ মিয়া এখনো পলাতক রয়েছেন। ধৃত জাকির সৈয়দপুর (ঈশানকোনা) এলাকার মৃত আব্দুর রূপের ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লাকু মিয়া ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, তিনি বারবার বারণ করা সত্ত্বেও কিশোরটিকে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। নিহতের চাচা আকিদ আলী এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।