ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল: ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঝরল ২৭ প্রাণ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ঘটে যাওয়া একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায়। গত ১৬ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে এই মহাসড়কে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৭ জন। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ের মধ্যে মোট ৩৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে আহত হয়েছেন ১০৬ জনেরও বেশি যাত্রী।

মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১০৪ কিলোমিটার এলাকায় এসব দুর্ঘটনা মূলত চালকদের বেপরোয়া গতি, অসাবধানতা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঈদের দিন রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাটি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলে দেয়। এছাড়া বুড়িচংয়ের কালাকচুয়া এলাকায় বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সেই প্রতিবেদনগুলো আলোর মুখ না দেখায় চালকরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে পুনরায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিরাপদ সড়কের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ এবং চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনার হার এবং নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জাতীয় পর্যায়ে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মাঝেও হরমুজ প্রণালীতে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ চলাচল

কুমিল্লার মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল: ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঝরল ২৭ প্রাণ

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ঘটে যাওয়া একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায়। গত ১৬ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে এই মহাসড়কে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৭ জন। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ের মধ্যে মোট ৩৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে আহত হয়েছেন ১০৬ জনেরও বেশি যাত্রী।

মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১০৪ কিলোমিটার এলাকায় এসব দুর্ঘটনা মূলত চালকদের বেপরোয়া গতি, অসাবধানতা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঈদের দিন রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাটি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলে দেয়। এছাড়া বুড়িচংয়ের কালাকচুয়া এলাকায় বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সেই প্রতিবেদনগুলো আলোর মুখ না দেখায় চালকরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে পুনরায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিরাপদ সড়কের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ এবং চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনার হার এবং নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জাতীয় পর্যায়ে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।