জামালপুরের মেলান্দহে মেসার্স নুরুননাহার এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আগের দামে কেনা মজুতকৃত জ্বালানি তেল সরকার নির্ধারিত বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হাজরাবাড়ী বাজারে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল ডিপো থেকে আগের দামে পেট্রোল ক্রয় করার পর আব্দুর রহিম তা নির্ধারিত সময়ে বিক্রি না করে মজুত করেন। পরবর্তীতে সরকার কর্তৃক জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর হলে তিনি সেই মজুতকৃত তেলই বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। একাধিকবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
একাধিক মোটরবাইক চালক অভিযোগ করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই তেল বিক্রি হবে এমন কথা শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু দোকানে এসে দেখা যায়, নতুন বাড়তি দাম ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবাদ করলে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে এবং বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে হচ্ছে। রাশেদুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আগের দামে কেনা তেল আগের দামেই বিক্রি করার কথা। কিন্তু তারা বেশি দামে বিক্রি করছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, গত ১৭ তারিখে ডিপো থেকে তেল তুলেছি এবং আজ নতুন দামেই (১৩৫ টাকা) বিক্রি করছি। আগেও দাম বাড়লে এভাবেই বিক্রি করেছি। এ বিষয়ে প্রশাসন থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।
মেলান্দহ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা আক্তার জ্যোতি বলেন, প্রজ্ঞাপনে আলাদা করে কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি। তবে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল বিন রশিদ বলেন, আগে কেনা তেল আগের দামেই বিক্রি করার কথা। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, আগের দামে কেনা তেল বেশি দামে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কেউ এমনটি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন দামে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























