বিগত বছর বিশ্বজুড়ে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা, যারা ‘জেন-জি’ প্রজন্ম নামে পরিচিত, তারা বিভিন্ন দেশে দুর্নীতিগ্রস্ত ও বাস্তবতাবিবর্জিত শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, পেরু, নেপালসহ বহু দেশে তাদের এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। তরুণ প্রজন্ম প্রায়শই পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়, তবে তাদের আকাঙ্ক্ষা সবসময় পূর্ণ হয় না, যেমনটি ১৫ বছর আগের আরব বসন্তের পর দেখা গিয়েছিল।
নেপালে জেন-জিদের আন্দোলন এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে, মাত্র দুই দিনের বিক্ষোভে তারা সরকারের দুর্নীতি, জবাবদিহিতার অভাব এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। এর ফলস্বরূপ, সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং পরবর্তীতে তরুণদের দ্বারা সমর্থিত একটি দল নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। যদিও নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মিলেনিয়াল প্রজন্মের, তিনি তরুণদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এই ঘটনা জেন-জিদের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, মাদাগাস্কারেও জেন-জিদের বিক্ষোভ এক বড় পরিবর্তন এনেছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে, ক্রমবর্ধমান অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর এক কর্নেল, যিনি এখন নতুন প্রেসিডেন্ট, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বরখাস্ত করে দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে, সেখানে নির্বাচনের সম্ভাবনা আগামী বছরের আগে নেই, যা একটি অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
পেরুতেও তরুণদের আন্দোলন প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামতে বাধ্য করে। তাদের বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হন, যদিও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এই ঘটনার পেছনে একটি বড় কারণ ছিল। দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ঘন ঘন নেতা পরিবর্তনের কারণে পেরুর পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল হয়নি।
ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোতেও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, জেন-জিদের আন্দোলন বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তবে তাদের সাফল্য অনেক সময়ই দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়।
রিপোর্টারের নাম 



















