দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে অব্যবস্থাপনা চরমে পৌঁছেছে। নতুন কেনা পন্টুন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পুরোনো ও জরাজীর্ণ পন্টুনে কোনোমতে চলছে ফেরি চলাচল। এরই মধ্যে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটটি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকায় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া প্রান্তে মোট সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে মাত্র দুটি সচল রয়েছে। ৭ নম্বর ফেরিঘাটটি পন্টুন মেরামতের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ভাসমান কারখানার মাধ্যমে সংস্কার কাজ চললেও ধীরগতির কারণে এটি কবে নাগাদ চালু হবে তা অনিশ্চিত। এদিকে, নতুন ক্রয়কৃত কয়েকটি পন্টুন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার না করায় সেগুলোতে ইতিমধ্যেই মরিচা ও জং ধরতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার এসব পন্টুন সময়মতো ব্যবহার না করায় তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
এর আগে গত ২৫ মার্চ ৩ নম্বর ফেরিঘাটে একটি বাসডুবির ঘটনার পর সাময়িকভাবে ঘাটটি বন্ধ হয়ে গেলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেই ঘটনার পরও ঘাট ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না আসায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বর্তমানে মাত্র দুটি ঘাট সচল থাকায় পণ্যবাহী ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সময় অপচয়ের কারণ হচ্ছে।
যানবাহন চালক ও যাত্রীরা অবিলম্বে অন্তত চারটি ফেরিঘাট সব সময় সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ১২ এপ্রিল থেকে পন্টুন মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘাটটি চালু করার চেষ্টা চলছে। দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও পন্টুন মেরামতের কাজ চলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 



















