ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

দৌলতদিয়ায় মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা: পন্টুন সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চূড়ান্ত পর্যায়ে

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় চতুর্থ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে। শনিবার সকাল থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল এই উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে।

উদ্ধার কাজ সহজ করতে এবং তল্লাশির পরিধি বাড়াতে ৩ নম্বর পন্টুনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি উদ্ধার অভিযানের শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টানা কয়েক দিনের প্রচেষ্টার পর এই চূড়ান্ত অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজ শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় জনগণ, নৌপুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। পরবর্তীতে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল যুক্ত হলে উদ্ধার কার্যক্রম আরও বেগবান হয়। তবে নদীর গভীরতা এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধারকর্মীদের শুরু থেকেই বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলো সংশ্লিষ্ট স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে নদীর তীরে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সকল স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং আজকের চূড়ান্ত অভিযানের পর উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হতে পারে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে পরবর্তী পদক্ষেপ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। এই দুর্ঘটনার পর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা ও তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মাঝেও হরমুজ প্রণালীতে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ চলাচল

দৌলতদিয়ায় মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা: পন্টুন সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চূড়ান্ত পর্যায়ে

আপডেট সময় : ১১:৩২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় চতুর্থ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে। শনিবার সকাল থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল এই উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে।

উদ্ধার কাজ সহজ করতে এবং তল্লাশির পরিধি বাড়াতে ৩ নম্বর পন্টুনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি উদ্ধার অভিযানের শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টানা কয়েক দিনের প্রচেষ্টার পর এই চূড়ান্ত অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজ শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় জনগণ, নৌপুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। পরবর্তীতে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল যুক্ত হলে উদ্ধার কার্যক্রম আরও বেগবান হয়। তবে নদীর গভীরতা এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধারকর্মীদের শুরু থেকেই বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলো সংশ্লিষ্ট স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে নদীর তীরে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সকল স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং আজকের চূড়ান্ত অভিযানের পর উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হতে পারে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে পরবর্তী পদক্ষেপ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। এই দুর্ঘটনার পর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা ও তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।