ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষা খাতে ১৮০ দিনের ‘মেগা’ পরিকল্পনা

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ১৮০ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট ও উচ্চাভিলাষী কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই স্বল্পমেয়াদি কর্মসূচিতে ৩৬টি অগ্রাধিকারমূলক কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। এই পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্প, যার আওতায় প্রথম পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ৫০ হাজার শিক্ষকের হাতে অত্যাধুনিক ট্যাব তুলে দেওয়া হবে। শিক্ষকদের ডিজিটাল শিখন পদ্ধতিতে অভ্যস্ত করা এবং ক্লাসরুমে তথ্যপ্রযুক্তির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্রসারে ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য এই কর্মসূচিতে সবচেয়ে বড় ‘চমক’ হিসেবে থাকছে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা ও মহানগরের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা দেওয়া হবে, যা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, একটি স্বতন্ত্র ‘শিক্ষা টিভি’ চালু করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠনের মতো টেকসই উদ্যোগও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী করতে প্রাথমিক স্তর থেকেই ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করমুক্ত করা এবং গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ৩০০টি নতুন গবেষণা প্রস্তাবে পূর্ণ অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যেমন—প্রতিবন্ধীবান্ধব র‍্যাম্প ও বিশেষ টয়লেট নির্মাণের পাশাপাশি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষাকে আনন্দময় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনায় আরও রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের সহায়তা, এডু-আইডি প্রবর্তন এবং শিক্ষকদের অবসর ভাতা প্রাপ্তি সহজীকরণ। তবে এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধকে। শিক্ষাবিদদের মতে, এই পরিকল্পনার অন্তত ৮০ শতাংশ বাস্তবায়িত হলে ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠিত হবে। শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অর্থ সংস্থান হলে আগস্টের মধ্যেই এই পরিকল্পনার শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী: ১৪ স্থানে ব্যারিকেড ও কঠোর বিধিনিষেধ

শিক্ষা খাতে ১৮০ দিনের ‘মেগা’ পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ১২:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ১৮০ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট ও উচ্চাভিলাষী কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই স্বল্পমেয়াদি কর্মসূচিতে ৩৬টি অগ্রাধিকারমূলক কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। এই পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্প, যার আওতায় প্রথম পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ৫০ হাজার শিক্ষকের হাতে অত্যাধুনিক ট্যাব তুলে দেওয়া হবে। শিক্ষকদের ডিজিটাল শিখন পদ্ধতিতে অভ্যস্ত করা এবং ক্লাসরুমে তথ্যপ্রযুক্তির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্রসারে ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য এই কর্মসূচিতে সবচেয়ে বড় ‘চমক’ হিসেবে থাকছে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা ও মহানগরের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা দেওয়া হবে, যা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, একটি স্বতন্ত্র ‘শিক্ষা টিভি’ চালু করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠনের মতো টেকসই উদ্যোগও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী করতে প্রাথমিক স্তর থেকেই ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করমুক্ত করা এবং গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ৩০০টি নতুন গবেষণা প্রস্তাবে পূর্ণ অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যেমন—প্রতিবন্ধীবান্ধব র‍্যাম্প ও বিশেষ টয়লেট নির্মাণের পাশাপাশি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষাকে আনন্দময় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনায় আরও রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের সহায়তা, এডু-আইডি প্রবর্তন এবং শিক্ষকদের অবসর ভাতা প্রাপ্তি সহজীকরণ। তবে এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধকে। শিক্ষাবিদদের মতে, এই পরিকল্পনার অন্তত ৮০ শতাংশ বাস্তবায়িত হলে ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠিত হবে। শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অর্থ সংস্থান হলে আগস্টের মধ্যেই এই পরিকল্পনার শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।