ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: আইজিপি

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্টের আগে ও পরে সংঘটিত পুলিশ হত্যাসহ প্রতিটি প্রাণহানির ঘটনার বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

আইজিপি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, ওই সময়কার প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যা করণীয়, তার সবকিছুই করা হবে। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি দাবি করেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটি জাতীয় নির্বাচন উপহার দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নাগরিকদের আইন মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের সামান্য কারণে রাস্তা অবরোধ করার প্রবণতা পরিহার করতে হবে, কারণ এটি দেশ ও দশের সামগ্রিক ক্ষতি সাধন করে।

দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আইজিপি আলী হোসেন ফকির উল্লেখ করেন যে, শিক্ষিত বেকারত্ব এবং দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাত বর্তমানে চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই অস্থিরতার সুযোগে অনেক তরুণ মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

তবে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ বা আপসহীন নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। জ্বালানি তেলের সংকট ও চলমান কালোবাজারি রোধে তিনি কেবল আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং জনগণের নৈতিক চিন্তাভাবনার উন্নতির ওপর জোর দেন। এ সময় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান যে, ঢাকাসহ দেশের সকল বিভাগীয় শহরকে ‘স্মার্ট ও সেফ সিটি’ বা আধুনিক নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করার জন্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে সেই প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা জামিন পাওয়ার পরেও আওয়ামী লীগ নেতাদের নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির একটি চিঠির প্রতি আইজিপির দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনাকে সরকারের ‘এক নম্বর এজেন্ডা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইজিপি নির্দেশ দেন যে, গত ১৭ বছরে দেশের ব্যাংক ও শেয়ার বাজারসহ অর্থনৈতিক খাতের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পুলিশ বাহিনীকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনী ও বিজিবি পুলিশ বাহিনীকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষক স্বল্পতা মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ

জুলাই অভ্যুত্থানের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: আইজিপি

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্টের আগে ও পরে সংঘটিত পুলিশ হত্যাসহ প্রতিটি প্রাণহানির ঘটনার বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

আইজিপি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, ওই সময়কার প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যা করণীয়, তার সবকিছুই করা হবে। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি দাবি করেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটি জাতীয় নির্বাচন উপহার দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নাগরিকদের আইন মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের সামান্য কারণে রাস্তা অবরোধ করার প্রবণতা পরিহার করতে হবে, কারণ এটি দেশ ও দশের সামগ্রিক ক্ষতি সাধন করে।

দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আইজিপি আলী হোসেন ফকির উল্লেখ করেন যে, শিক্ষিত বেকারত্ব এবং দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাত বর্তমানে চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই অস্থিরতার সুযোগে অনেক তরুণ মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

তবে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ বা আপসহীন নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। জ্বালানি তেলের সংকট ও চলমান কালোবাজারি রোধে তিনি কেবল আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং জনগণের নৈতিক চিন্তাভাবনার উন্নতির ওপর জোর দেন। এ সময় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান যে, ঢাকাসহ দেশের সকল বিভাগীয় শহরকে ‘স্মার্ট ও সেফ সিটি’ বা আধুনিক নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করার জন্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে সেই প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা জামিন পাওয়ার পরেও আওয়ামী লীগ নেতাদের নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির একটি চিঠির প্রতি আইজিপির দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনাকে সরকারের ‘এক নম্বর এজেন্ডা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইজিপি নির্দেশ দেন যে, গত ১৭ বছরে দেশের ব্যাংক ও শেয়ার বাজারসহ অর্থনৈতিক খাতের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পুলিশ বাহিনীকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনী ও বিজিবি পুলিশ বাহিনীকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।