যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠার উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকের পর দুই পক্ষের মতপার্থক্য এতটাই গভীর বলে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যে, তা আপাতত মেটানো সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে বা দুই পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোনো সমঝোতা ছাড়াই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগ করেছে। দোহাভিত্তিক এক অর্থনৈতিক পরামর্শক বলেছেন, ‘যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। এখন প্রতিদিন কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়।’
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় অনেকেই বিস্মিত নন। তেল আবিবের এক স্কুলশিক্ষক বলেছেন, ‘শুরু থেকেই খুব বেশি আশা ছিল না। দুই পক্ষ সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু চায়। আলোচনায় সত্যিকারের আগ্রহ কারও মধ্যে দেখা যায়নি।’ সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইলের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ অর্জন করেছে। বিপরীতে ৩২ শতাংশ এটিকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
ইরানেও স্বল্প সময়ের জন্য তৈরি হওয়া শান্তির আশা দ্রুতই ভেঙে যায়। তেহরানের এক রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলেন, ‘আমি সত্যিই চেয়েছিলাম শান্তি হোক। প্রায় ৪৫ দিন ধরে সবাই দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিল। এটা খুবই খারাপ পরিস্থিতি।’ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জায়গায়ও আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে বসবাসকারী এক মিশরীয় গৃহিণী বলেন, ‘পরিস্থিতি আবার খারাপ হবে কি না, তা নিয়ে আমি চিন্তিত। আগের হামলাগুলো আমাকে ভীষণ চাপের মধ্যে ফেলেছিল। সন্তানদের কাছে সেই চাপ না পৌঁছাতে অনেক চেষ্টা করেছি।’
এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে তাৎক্ষণিক নৌ অবরোধের নির্দেশ দেন। তিনি ঘোষণা দেন, কোনো জাহাজ তেহরানকে শুল্ক দিলে সেটি আটকানো হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে ভবিষ্যতে তেলের আয় থেকেও বঞ্চিত করার হুমকি দেন।
রিপোর্টারের নাম 




















