ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

পলাশবাড়ী থানায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াত কর্মী আটক, ৮ পুলিশ আহত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), একজন এসআই, এএসআই এবং একজন নারী কনস্টেবলসহ অন্তত আট পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত পুলিশ সদস্যদের রাতেই পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানার অফিস কক্ষে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সারোয়ার আলম জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে জামায়াত যুব বিভাগের কতিপয় নেতাকর্মী কালীবাড়ী হাটের একটি সরকারি বরাদ্দকৃত দোকানের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ নিয়ে ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন। ওসি তাদের অভিযোগপত্রটি যথাযথ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জামায়াত যুব বিভাগের কর্মীরা ওসি সারোয়ার আলম খানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলে তিনি দাবি করেন। ফলে তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা ওসি সারোয়ার আলম খানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও ওসি অভিযোগ করেন। এ সময় থানার কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনায় অফিসার ইনচার্জ সারোয়ার আলম, এসআই শাহ নেওয়াজ, এসআই রাসেল, এএসআই আশরাফুল, এএসআই ওহিদুল, এএসআই রুহুল আমিন, নারী কনস্টেবল মোস্তারিনা এবং কনস্টেবল আব্দুল মজিদসহ মোট আটজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে আহতদের পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, জামায়াত যুব বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পৌর শহরের গৃধারীপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে তহিদুল ইসলাম কাননকে আটক করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামায়াত যুব বিভাগের সভাপতি আতিফ তরফদার সাংবাদিকদের জানান, তিনি পলাশবাড়ীর বাইরে ছিলেন এবং মোবাইল ফোনে বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। বিস্তারিত না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলে তিনি জানান। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা এমপি থানায় ছুটে যান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ, ৭ জন আটক

পলাশবাড়ী থানায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াত কর্মী আটক, ৮ পুলিশ আহত

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), একজন এসআই, এএসআই এবং একজন নারী কনস্টেবলসহ অন্তত আট পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত পুলিশ সদস্যদের রাতেই পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানার অফিস কক্ষে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সারোয়ার আলম জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে জামায়াত যুব বিভাগের কতিপয় নেতাকর্মী কালীবাড়ী হাটের একটি সরকারি বরাদ্দকৃত দোকানের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ নিয়ে ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন। ওসি তাদের অভিযোগপত্রটি যথাযথ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জামায়াত যুব বিভাগের কর্মীরা ওসি সারোয়ার আলম খানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলে তিনি দাবি করেন। ফলে তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা ওসি সারোয়ার আলম খানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও ওসি অভিযোগ করেন। এ সময় থানার কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনায় অফিসার ইনচার্জ সারোয়ার আলম, এসআই শাহ নেওয়াজ, এসআই রাসেল, এএসআই আশরাফুল, এএসআই ওহিদুল, এএসআই রুহুল আমিন, নারী কনস্টেবল মোস্তারিনা এবং কনস্টেবল আব্দুল মজিদসহ মোট আটজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে আহতদের পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, জামায়াত যুব বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পৌর শহরের গৃধারীপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে তহিদুল ইসলাম কাননকে আটক করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামায়াত যুব বিভাগের সভাপতি আতিফ তরফদার সাংবাদিকদের জানান, তিনি পলাশবাড়ীর বাইরে ছিলেন এবং মোবাইল ফোনে বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। বিস্তারিত না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলে তিনি জানান। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা এমপি থানায় ছুটে যান।