পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সবুজ বনায়নের ভেতরে অবস্থিত খালে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন কর্মকাণ্ডের ফলে একদিকে ছোট প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে বিষাক্ত পানি পান করে মহিষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এই ঘটনায় বন বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা এবং কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী নদীবেষ্টিত হওয়ায় এর সবুজ বনায়নের ভেতরে অসংখ্য ছোট ছোট খাল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। জোয়ার-ভাটার পানির সঙ্গে এসব খালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রবেশ করে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র লিজের নামে বা মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে এসব খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করছে, যা স্থানীয় জেলেদের জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে।
চর মাদারবুনিয়ার ১৯টি মহিষের মালিক মনজুর রহমান মৃধা অভিযোগ করেন, গত ২১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে রাতে বনের খালে বিষ প্রয়োগের কারণে জোয়ারের পানিতে আটকে পড়ে তার প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি মহিষ মারা যায়। এছাড়া আরও তিনটি ছোট মহিষ নিখোঁজ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘বাঁধের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিষ প্রয়োগের কারণে মাছসহ অন্যান্য প্রাণীর ক্ষতি হচ্ছে।’’
স্থানীয় জসিম মিয়া এবং রিয়াদ হোসেনও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি বনের গাছ কেটে বাঁধ নির্মাণ করছে এবং খালে বিষ প্রয়োগ করছে। এতে মহিষের মৃত্যুসহ পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তারা এই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশেই প্রভাবশালীরা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, বনের খালে বাঁধ দিয়ে বিষ প্রয়োগ বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও মহিষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
তবে, বাঁধ নির্মাণকারী হিসেবে অভিযুক্ত ওহাব মাদবার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, যে বাঁধে মহিষ মারা গেছে সেটি তিনি দেননি। অন্য একটি খালে তিনি বাঁধ দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























