ঢাকা ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

অলৌকিক বেঁচে ফেরা: মাত্র ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরলেন খাইরুল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থল ঢাকায় ফেরার পথে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রী নিহত হলেও, ১১ জন অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। তাদেরই একজন হলেন যুবক খাইরুল ইসলাম খাঁ, যিনি মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে এসেছেন।

খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে খাইরুল ঢাকার একটি টেক্সটাইল মিলে মেশিনম্যান হিসেবে কর্মরত। ঈদের ছুটি শেষে তিনি বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। তার আসন নম্বর ছিল বি-২। খোকসা স্ট্যান্ড থেকে বাসটি দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে ছাড়ার সময় প্রতিটি আসন পূর্ণ ছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যে বাসটি নদীতে তলিয়ে যায়।

খাইরুল বলেন, ‘কীভাবে যে নদীতে ছিটকে পড়লাম, তা বলতে পারি না। শুধু এটুকু মনে আছে, মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। সাঁতরে তীরে ওঠার পর একজন সাহায্য করার নাম করে আমার ফোনটি নিয়ে আর ফেরত দেয়নি।’

তিনি আরও জানান, তার পাশের সিটের যাত্রী, একজন সাদা টি-শার্ট পরা যুবক, খোকসা স্ট্যান্ড থেকেই বাসে উঠেছিলেন। বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর তিনি নেমে যান এবং কয়েক মিনিট পর আবার ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালে ঠিক তখনই বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগলে তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে নদীতে পড়ে যান। তার দেখা হাতেগোনা কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

দুর্ঘটনার পর পাশের সিটের যুবকের সঙ্গে তার আর দেখা হয়নি। খাইরুল জানান, বাসের প্রতিটি সিট যাত্রীতে ঠাসা ছিল এবং প্রত্যেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। তার ধারণা, সিটে বসে থাকা প্রায় ৪০ জন নারী ও শিশু যাত্রী ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়েছিল। বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন।

সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসার কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস নিশ্চিত করেছেন যে, বি-১ ও ২ নম্বর আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিলেন এবং তাদের মধ্যে একজন জীবিত ফিরেছেন। তিনি আরও জানান, অজ্ঞাতপরিচয়ের এক বৃদ্ধ যাত্রীও উঠেছিলেন, যিনি বি-১ আসনে ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত: এক ইসরায়েলি সেনা নিহত

অলৌকিক বেঁচে ফেরা: মাত্র ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরলেন খাইরুল

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থল ঢাকায় ফেরার পথে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রী নিহত হলেও, ১১ জন অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। তাদেরই একজন হলেন যুবক খাইরুল ইসলাম খাঁ, যিনি মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে এসেছেন।

খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে খাইরুল ঢাকার একটি টেক্সটাইল মিলে মেশিনম্যান হিসেবে কর্মরত। ঈদের ছুটি শেষে তিনি বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। তার আসন নম্বর ছিল বি-২। খোকসা স্ট্যান্ড থেকে বাসটি দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে ছাড়ার সময় প্রতিটি আসন পূর্ণ ছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যে বাসটি নদীতে তলিয়ে যায়।

খাইরুল বলেন, ‘কীভাবে যে নদীতে ছিটকে পড়লাম, তা বলতে পারি না। শুধু এটুকু মনে আছে, মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। সাঁতরে তীরে ওঠার পর একজন সাহায্য করার নাম করে আমার ফোনটি নিয়ে আর ফেরত দেয়নি।’

তিনি আরও জানান, তার পাশের সিটের যাত্রী, একজন সাদা টি-শার্ট পরা যুবক, খোকসা স্ট্যান্ড থেকেই বাসে উঠেছিলেন। বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর তিনি নেমে যান এবং কয়েক মিনিট পর আবার ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালে ঠিক তখনই বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগলে তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে নদীতে পড়ে যান। তার দেখা হাতেগোনা কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

দুর্ঘটনার পর পাশের সিটের যুবকের সঙ্গে তার আর দেখা হয়নি। খাইরুল জানান, বাসের প্রতিটি সিট যাত্রীতে ঠাসা ছিল এবং প্রত্যেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। তার ধারণা, সিটে বসে থাকা প্রায় ৪০ জন নারী ও শিশু যাত্রী ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়েছিল। বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন।

সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসার কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস নিশ্চিত করেছেন যে, বি-১ ও ২ নম্বর আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিলেন এবং তাদের মধ্যে একজন জীবিত ফিরেছেন। তিনি আরও জানান, অজ্ঞাতপরিচয়ের এক বৃদ্ধ যাত্রীও উঠেছিলেন, যিনি বি-১ আসনে ছিলেন।