রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর পল্টনে একটি বড় সমাবেশ করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ওই সমাবেশ থেকেই জোটের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। বৈঠকে জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান ও ভবিষ্যৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী ৩ আগস্ট শীর্ষ নেতাদের আরেকটি বৈঠকে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। তিনি জানান, ৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর পল্টনে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। একই সঙ্গে রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ সম্প্রতি হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ কর্মসূচিতে এনসিপির সিনিয়র নেতাদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, “কারও বক্তব্য পছন্দ না হলে বা মতপার্থক্য থাকলে তার রাজনৈতিক জবাব রাজনৈতিকভাবেই দিতে হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিহত করার চেষ্টা অতীতের ফ্যাসিবাদী আচরণেরই পুনরাবৃত্তি।”
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনা, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বরং সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, সিলেটে সংঘটিত হামলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। তিনি সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 


















