রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং রোগী ও স্বজনদের হয়রানি রোধে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পরিচয়পত্র ও নির্ধারিত পোশাক পরে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রোগী ও স্বজনরা সহজেই প্রকৃত কর্মচারীদের শনাক্ত করতে পারবেন এবং দালালদের প্রতারণার শিকার হবেন না।
হাসপাতালের নিরাপত্তা ও সেবার মান বৃদ্ধিতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরো হাসপাতালকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা, একটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন, রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা। মন্ত্রী আরও জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে হাসপাতালের আইসিইউ বেড ১০টি থেকে বাড়িয়ে ২০টি করা হবে। অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞের সংকট নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সার্বক্ষণিক অস্ত্রোপচার সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়।
এছাড়াও, লাশ পরিবহনে অনিয়ম বন্ধে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো তালিকাভুক্ত করা হবে। কিলোমিটারভিত্তিক ভাড়ার হার নির্ধারণ করে চার্ট তৈরি করা হবে এবং চালানের মাধ্যমে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং দালাল চক্র ও অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন ত্রাণমন্ত্রী।
এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রিপোর্টারের নাম 


















