লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় সরকারের খাল খনন কর্মসূচি চলাকালীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি পুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে ভিডিও প্রতিবেদন তৈরির জেরে একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার দেশ পত্রিকার কমলনগর উপজেলা প্রতিনিধি আমজাদ হোসেন আমু স্থানীয় বিএনপি নেতা সেকান্তর আলমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন এবং মঙ্গলবার রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত সেকান্তর আলম একই উপজেলার চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। জিডি সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক আমজাদ হোসেন আমু মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কমলনগরের করইতোলা বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি জলাশয় মাটি ভরাট করে দোকান নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য যান। সেখানে তিনি তথ্য নেওয়ার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ১ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিও বক্তব্য পোস্ট করেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে সাংবাদিক আমজাদ লেখেন, “বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কাজ করলেও লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের করইতোলা বাজারে খাল দখল চলছে- এতে জনমনে প্রশ্ন এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।” সাংবাদিক আমজাদের এই ভিডিওটি প্রায় ১৫ হাজার মানুষ দেখে, ৫১ জন শেয়ার করেন এবং ৬৮ জন মন্তব্য করেন।
ভিডিও প্রকাশের পর বিএনপি নেতা সেকান্তর আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিক আমজাদকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “বাজারে যে আরও দুইশত লোকে দখল করে দোকান পাট নির্মাণ করছে তুই কি চোখে দেখছনি খানকির পুত তুই বহুত পাজলামি করছ তোরে শনি ঘুরাতে কিন্তু…..তুই চালা তোর মতো চাঁদাবাজ হলুদ সাংগাতিক এগিয়ে যা।”
সাংবাদিক আমজাদ হোসেন আমু জানান, অন্যের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে বিএনপি নেতা সেকান্তর আলম তাকে সরাসরি ফেসবুকে এসে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এই ঘটনার পর তিনি কমলনগর থানায় একটি জিডি দায়ের করেছেন এবং প্রশাসনের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেকান্তর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তিনি এখন আদালতে মামলা করবেন, তবে কী বিষয়ে মামলা করবেন তা তিনি জানাননি।
কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, সেকান্তর আলম বিএনপির কোনো পদ-পদবিতে নেই এবং তিনি কয়েক বছর আগেই দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কোনো দলের সাথে জড়িত নন। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকের সাথে এমন বেয়াদবিমূলক আচরণের জন্য তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
রিপোর্টারের নাম 

























