রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবির ঘটনা তদন্তে সরকার দুটি কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেছেন এবং জানিয়েছেন যে যতক্ষণ প্রয়োজন, ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান চলবে।
প্রতিমন্ত্রী বুধবার গভীর রাতে সাংবাদিকদের জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি বাস বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে ডুবে যায়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝড়ো পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও শেষ পর্যন্ত বাসটি নদী থেকে তোলা সম্ভব হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, রাত ১টা পর্যন্ত মোট ১৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে মারা গেছেন, যাদের আহত অবস্থায় সেখানে নেওয়া হয়েছিল। আরো কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি ৩ থেকে ৪ কার্যদিবসের মধ্যে এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আরেকটি কমিটি ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের যৌথ তৎপরতা রাতেও চলবে এবং পরদিন দিনের আলোয় আরো বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালানো হবে। নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে, যা পরদিন প্রকাশ করা হতে পারে। লাশ শনাক্তের পর জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন বলেও প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























