ঢাকা ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটে উত্তরাঞ্চলে বোরো চাষে অনিশ্চয়তা: সেচ বন্ধ, কৃষকদের হাহাকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের উত্তরাঞ্চলে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট বোরো ধান চাষিদের চরম বিপাকে ফেলেছে। ডিজেলের অভাবে ক্ষেতে সেচ দিতে না পারায় বোরো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা দেশের প্রধান খাদ্যশস্যের যোগানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সেচ পাম্প, নলকূপ ও কৃষিযন্ত্র বন্ধ থাকায় কৃষকরা গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, অধিকাংশ পাম্পে প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার খোলা বাজারে যেখানে ডিজেল মিলছে, সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। এমনিতেই উৎপাদন ব্যয় বাড়তি, তার ওপর এই বাড়তি আর্থিক চাপ কৃষকদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দিয়ারমানিক চর এলাকায় সেচের জন্য ডিজেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় কৃষক আবদুল্লাহ বিন সাফি জানান, গত চারদিনে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০২ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে, যা তাদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।

নওগাঁর দুর্গাপুর উপজেলার বাজে কলশিপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, তিনি বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরেও ডিজেল পাননি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় এক খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে লিটারপ্রতি ১২০ টাকা দরে কিনতে বাধ্য হয়েছেন। একই উপজেলার ছিদ্রো কলশিপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের অবস্থা আরও করুণ। তিনি বুধবার সারাদিন বাজার ঘুরেও এক লিটার ডিজেল পাননি। তার বোরো ধানের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, অথচ ১৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে চাইলেও বিক্রেতারা সংকটের কথা বলে ডিজেল দিতে রাজি হননি। নিজের বোরোক্ষেত নিয়ে তিনি চরম উদ্বেগে আছেন।

সেচ পাম্পের চালকরাও বলছেন, ডিজেলের অভাবে তাদের সেচ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সংকটের কারণে তারা সেচের খরচ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত কৃষকদেরই বহন করতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত রাজশাহী কৃষি অঞ্চলে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই অঞ্চলে সেচের মূল চালিকাশক্তি ডিজেলনির্ভর হওয়ায় বর্তমান জ্বালানি সংকট বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত: এক ইসরায়েলি সেনা নিহত

জ্বালানি সংকটে উত্তরাঞ্চলে বোরো চাষে অনিশ্চয়তা: সেচ বন্ধ, কৃষকদের হাহাকার

আপডেট সময় : ০২:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

দেশের উত্তরাঞ্চলে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট বোরো ধান চাষিদের চরম বিপাকে ফেলেছে। ডিজেলের অভাবে ক্ষেতে সেচ দিতে না পারায় বোরো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা দেশের প্রধান খাদ্যশস্যের যোগানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সেচ পাম্প, নলকূপ ও কৃষিযন্ত্র বন্ধ থাকায় কৃষকরা গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, অধিকাংশ পাম্পে প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার খোলা বাজারে যেখানে ডিজেল মিলছে, সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। এমনিতেই উৎপাদন ব্যয় বাড়তি, তার ওপর এই বাড়তি আর্থিক চাপ কৃষকদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দিয়ারমানিক চর এলাকায় সেচের জন্য ডিজেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় কৃষক আবদুল্লাহ বিন সাফি জানান, গত চারদিনে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০২ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে, যা তাদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।

নওগাঁর দুর্গাপুর উপজেলার বাজে কলশিপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, তিনি বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরেও ডিজেল পাননি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় এক খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে লিটারপ্রতি ১২০ টাকা দরে কিনতে বাধ্য হয়েছেন। একই উপজেলার ছিদ্রো কলশিপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের অবস্থা আরও করুণ। তিনি বুধবার সারাদিন বাজার ঘুরেও এক লিটার ডিজেল পাননি। তার বোরো ধানের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, অথচ ১৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে চাইলেও বিক্রেতারা সংকটের কথা বলে ডিজেল দিতে রাজি হননি। নিজের বোরোক্ষেত নিয়ে তিনি চরম উদ্বেগে আছেন।

সেচ পাম্পের চালকরাও বলছেন, ডিজেলের অভাবে তাদের সেচ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সংকটের কারণে তারা সেচের খরচ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত কৃষকদেরই বহন করতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত রাজশাহী কৃষি অঞ্চলে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই অঞ্চলে সেচের মূল চালিকাশক্তি ডিজেলনির্ভর হওয়ায় বর্তমান জ্বালানি সংকট বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে।