ঢাকা ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ: মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও ডায়েরি উপহার দিলেন সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি তাঁদের হাতে ডায়েরি উপহার দিয়েছেন। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস সংরক্ষণ করা এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

বুধবার (২৫ মার্চ) নগরের হালিশহরের জে.পি কনভেনশন হলে আয়োজিত এক মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা ও আলোচনা সভায় ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা জানানো হয়। পাশাপাশি, প্রত্যেককে একটি করে আকর্ষণীয় খালি ডায়েরি দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এই ডায়েরিগুলো কেবল উপহার নয়, বরং ইতিহাস রচনার এক নতুন মাধ্যম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষীরা হারিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁদের মুখে শোনা অভিজ্ঞতা, যুদ্ধের গল্প, কষ্ট-সংগ্রাম ও স্বপ্ন—এসব অপ্রকাশিতই থেকে যাচ্ছে। তাই এই অভিজ্ঞতাগুলো লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। সাঈদ আল নোমান চান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যেসব স্বপ্ন ছিলো, সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা শুনতে ও জানতে। পরবর্তীতে তিনি এই ডায়েরিগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে এক বা একাধিক গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করার পরিকল্পনাও জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হলেও তাঁদের অনেক অজানা গল্প এখনও ইতিহাসের পাতায় স্থান পায়নি। তিনি মনে করেন, মুক্তিযোদ্ধারা নিজেরাই যদি নিজেদের অভিজ্ঞতা নিজের ভাষায় লিখে যান, তবে তা হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও হৃদয়স্পর্শী দলিল। সেইসাথে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের স্বপ্নের কতটুকু পূরণ হয়েছে সেগুলো এই ডায়েরিতে লিখবেন, যা পরবর্তীতে তিনি সংরক্ষণ করে বই আকারে প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তিগত স্মৃতিকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করা। ডায়েরিতে লেখা এসব অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে গবেষণা ও ইতিহাসচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও তিনি মনে করেন। সভায় বক্তারা পাঠ্যবইয়ের সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে জীবন্তভাবে তুলে ধরতে এমন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন, কারণ ব্যক্তিগত স্মৃতিই ইতিহাসকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ: মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও ডায়েরি উপহার দিলেন সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান

আপডেট সময় : ০২:২৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি তাঁদের হাতে ডায়েরি উপহার দিয়েছেন। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস সংরক্ষণ করা এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

বুধবার (২৫ মার্চ) নগরের হালিশহরের জে.পি কনভেনশন হলে আয়োজিত এক মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা ও আলোচনা সভায় ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা জানানো হয়। পাশাপাশি, প্রত্যেককে একটি করে আকর্ষণীয় খালি ডায়েরি দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এই ডায়েরিগুলো কেবল উপহার নয়, বরং ইতিহাস রচনার এক নতুন মাধ্যম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষীরা হারিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁদের মুখে শোনা অভিজ্ঞতা, যুদ্ধের গল্প, কষ্ট-সংগ্রাম ও স্বপ্ন—এসব অপ্রকাশিতই থেকে যাচ্ছে। তাই এই অভিজ্ঞতাগুলো লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। সাঈদ আল নোমান চান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যেসব স্বপ্ন ছিলো, সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা শুনতে ও জানতে। পরবর্তীতে তিনি এই ডায়েরিগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে এক বা একাধিক গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করার পরিকল্পনাও জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হলেও তাঁদের অনেক অজানা গল্প এখনও ইতিহাসের পাতায় স্থান পায়নি। তিনি মনে করেন, মুক্তিযোদ্ধারা নিজেরাই যদি নিজেদের অভিজ্ঞতা নিজের ভাষায় লিখে যান, তবে তা হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও হৃদয়স্পর্শী দলিল। সেইসাথে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের স্বপ্নের কতটুকু পূরণ হয়েছে সেগুলো এই ডায়েরিতে লিখবেন, যা পরবর্তীতে তিনি সংরক্ষণ করে বই আকারে প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তিগত স্মৃতিকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করা। ডায়েরিতে লেখা এসব অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে গবেষণা ও ইতিহাসচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও তিনি মনে করেন। সভায় বক্তারা পাঠ্যবইয়ের সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে জীবন্তভাবে তুলে ধরতে এমন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন, কারণ ব্যক্তিগত স্মৃতিই ইতিহাসকে প্রাণবন্ত করে তোলে।