ঈদুল ফিতরের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক মর্মান্তিক সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনায় বিষাদে পরিণত হয়েছে বহু পরিবারের জীবন। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য পন্টুনে অপেক্ষমাণ ছিল। হঠাৎ এটি চলতে শুরু করলে চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি এবং মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি পন্টুন পেরিয়ে নদীতে পড়ে দ্রুত তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর পরই শুরু হওয়া প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে উদ্ধার অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নদীর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীরে বাসটি তলিয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের কাজ করতে বেগ পেতে হয়।
রাত সোয়া ১১টার দিকে বাসটি পানি থেকে টেনে তোলা শুরু হলে একে একে লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে আব্দুল আজিজ ও নুরুজ্জামানের মতো কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও তাদের প্রিয়জনদের বাঁচাতে পারেননি। নুরুজ্জামানের স্ত্রী ও সাত মাসের শিশু সন্তান বাসের ভেতরেই আটকে থেকে প্রাণ হারান। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পর বাসটি দৃশ্যমান হয় এবং একের পর এক নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতায় ধীরগতির অভিযোগ তুলে ঘাটে উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয় জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, কাছেই উদ্ধারকারী জাহাজ থাকা সত্ত্বেও সেটি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় নিয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়া এবং নদীর উত্তাল ঢেউয়ের কারণে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করতে দেরি হয়েছে।
বাসটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন তার সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়া গেলেও ধারণা করা হচ্ছে এতে ৪০ জনের বেশি আরোহী ছিলেন। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো পদ্মার পাড়ে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। এই শোকাবহ ঘটনা পুরো দেশের স্বাধীনতা দিবসের আনন্দকে বিষাদে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























