ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বৈশ্বিক দাসত্ব ও শোষণ নির্মূলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের জোরালো আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে দাসত্ব, বর্ণবাদ এবং সব ধরনের অমানবিক নিপীড়ন নির্মূলে জোরালো বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আয়োজিত এক বিশেষ স্মারক সভায় এই আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের কথা জানানো হয়। ‘আন্তর্জাতিক দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের শিকারদের স্মরণে’ আয়োজিত ওই সভায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিহাসের লক্ষ লক্ষ নিগৃহীত মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসঙ্গে তিনি স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমৃত্যু সংগ্রাম করে যাওয়া সাহসী মানুষদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্য মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক গভীর ও স্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব আজও বিশ্বের বিভিন্ন সমাজ, অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে বিদ্যমান। তিনি দাসত্ব, বর্ণবাদ ও গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকারের দৃঢ় ও আপসহীন অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত করেন। বক্তব্যে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯২৬ সালের দাসত্ব বিরোধী কনভেনশন এবং প্রায় ৮০ বছর আগে গৃহীত সর্বজনীন মানবাধিকার সনদে দাসত্বকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাচীন দাসত্ব প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে, তবুও আধুনিক বিশ্বে এর নানা রূপ এখনো ভিন্ন আঙ্গিকে বিদ্যমান রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি মানব পাচার প্রতিরোধ করা, ডিজিটাল ফরেনসিক সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং দাসত্বের ইতিহাস ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সবশেষে ড. খলিলুর রহমান এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক মহলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান, যেখানে দাসত্ব, বৈষম্য ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না এবং প্রতিটি মানুষের মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষক স্বল্পতা মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ

বৈশ্বিক দাসত্ব ও শোষণ নির্মূলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের জোরালো আহ্বান

আপডেট সময় : ১১:১১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বিশ্বজুড়ে দাসত্ব, বর্ণবাদ এবং সব ধরনের অমানবিক নিপীড়ন নির্মূলে জোরালো বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আয়োজিত এক বিশেষ স্মারক সভায় এই আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের কথা জানানো হয়। ‘আন্তর্জাতিক দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের শিকারদের স্মরণে’ আয়োজিত ওই সভায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিহাসের লক্ষ লক্ষ নিগৃহীত মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসঙ্গে তিনি স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমৃত্যু সংগ্রাম করে যাওয়া সাহসী মানুষদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্য মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক গভীর ও স্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব আজও বিশ্বের বিভিন্ন সমাজ, অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে বিদ্যমান। তিনি দাসত্ব, বর্ণবাদ ও গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকারের দৃঢ় ও আপসহীন অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত করেন। বক্তব্যে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯২৬ সালের দাসত্ব বিরোধী কনভেনশন এবং প্রায় ৮০ বছর আগে গৃহীত সর্বজনীন মানবাধিকার সনদে দাসত্বকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাচীন দাসত্ব প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে, তবুও আধুনিক বিশ্বে এর নানা রূপ এখনো ভিন্ন আঙ্গিকে বিদ্যমান রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি মানব পাচার প্রতিরোধ করা, ডিজিটাল ফরেনসিক সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং দাসত্বের ইতিহাস ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সবশেষে ড. খলিলুর রহমান এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক মহলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান, যেখানে দাসত্ব, বৈষম্য ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না এবং প্রতিটি মানুষের মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।