সরকার ঘোষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত ৪০ হাজার কোটি টাকা ফ্যামিলি কার্ড ও জ্বালানি ভর্তুকির মতো অন্য খাতে ব্যয় করার খবর জানাজানি হওয়ার পর এই অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সচিবালয়সহ মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে এখন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
কর্মচারীদের দাবি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তাই পে-স্কেল বাস্তবায়ন তাদের সাংবিধানিক অধিকার। অন্যদিকে, অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত ৪০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৯ হাজার ৩৮ কোটি টাকাই জ্বালানি তেল, এলএনজি আমদানি এবং কৃষি ঋণের সুদ মওকুফসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সরকারের হাতে এই খাতে মাত্র ৯৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে, যা দিয়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পে-স্কেল বাস্তবায়নে বিলম্বের পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, বাজেট সীমাবদ্ধতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অস্থিরতা। নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করতে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন, যা বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিতে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন হওয়ায় রাজস্ব পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে ধাপে ধাপে এবং পরীক্ষানিরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকার বেতন কাঠামো একবারে না করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথা ভাবছে। তবে কর্মচারী নেতাদের মতে, অবিলম্বে গেজেট প্রকাশ না হওয়াকে তারা ‘প্রতারণা’ হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর কর্মসূচি বা কর্মবিরতির আলটিমেটাম দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এই প্রশাসনিক অচলবস্থার ঝুঁকি জনসেবা ও সরকারি কর্মদক্ষতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























