ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের সাংবাদিকদের ধর্মঘট

বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি)-এর সাংবাদিকরা দীর্ঘ ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট দেশটির টেলিভিশন এবং রেডিও সম্প্রচারে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১১টায় ধর্মঘট শুরু হওয়ার কথা। এর আগে এবিসি-র প্রায় ৬০ শতাংশ সাংবাদিক কর্তৃপক্ষের দেওয়া বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কর্তৃপক্ষ আগামী তিন বছরে মোট ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে, এই প্রস্তাবটি জানুয়ারি মাসে অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৩.৮ শতাংশের তুলনায় যথেষ্ট কম বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা।

এবিসি-র সংবাদকর্মী এবং অন্যান্য কর্মীদের ইউনিয়নগুলোর মতে, কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি অত্যন্ত নগণ্য। এছাড়াও, এই প্রস্তাবে মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।

এবিসি-তে কর্মরত প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মীর মধ্যে ৭৫ শতাংশ গত রবিবার এই প্রস্তাবের ওপর ভোট দিয়ে তাদের অসম্মতি জানান। সাংবাদিকদের ইউনিয়ন, মিডিয়া, এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড আর্টস অ্যালায়েন্স-এর প্রতিনিধি মাইকেল স্লেজাক বলেন, আমরা এমন কোনো চুক্তি মেনে নিতে পারি না যা কাজের শর্তাবলি হ্রাস করে, মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় বেতন কমিয়ে দেয় এবং সাংবাদিকদের পরিবর্তে এআই বট প্রতিস্থাপনের বিষয়টি নিষিদ্ধ করতে রাজি হয় না।

অন্যদিকে, অসাংবাদিক কর্মীদের ইউনিয়ন, কমিউনিটি অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর ইউনিয়ন-এর জোসেলিন গ্যামি জানান, কর্তৃপক্ষ একটি ন্যায্য প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটা ‘অনিবার্য’। তিনি বলেন, যদিও ইউনিয়ন সদস্যরা চান না যে এবিসি-র দর্শকরা কোনো অসুবিধায় পড়ুক, তবুও তাদের মৌলিক দাবিগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

এবিসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিউ মার্কস অবশ্য দাবি করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রস্তাবটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ এবং আর্থিকভাবে দায়িত্বশীল। তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনা করে আমরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছি যা প্রতিষ্ঠানের জন্য টেকসই।

এই বিরোধ নিরসনের জন্য এবিসি এখন অস্ট্রেলিয়ার কর্মক্ষেত্র বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের সহায়তা চেয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে বেতন সংক্রান্ত বিরোধে এবিসি-তে ধর্মঘট হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি সরকারের পাশে সর্বাত্মকভাবে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের সাংবাদিকদের ধর্মঘট

আপডেট সময় : ০৭:১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি)-এর সাংবাদিকরা দীর্ঘ ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট দেশটির টেলিভিশন এবং রেডিও সম্প্রচারে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১১টায় ধর্মঘট শুরু হওয়ার কথা। এর আগে এবিসি-র প্রায় ৬০ শতাংশ সাংবাদিক কর্তৃপক্ষের দেওয়া বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কর্তৃপক্ষ আগামী তিন বছরে মোট ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে, এই প্রস্তাবটি জানুয়ারি মাসে অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৩.৮ শতাংশের তুলনায় যথেষ্ট কম বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা।

এবিসি-র সংবাদকর্মী এবং অন্যান্য কর্মীদের ইউনিয়নগুলোর মতে, কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি অত্যন্ত নগণ্য। এছাড়াও, এই প্রস্তাবে মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।

এবিসি-তে কর্মরত প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মীর মধ্যে ৭৫ শতাংশ গত রবিবার এই প্রস্তাবের ওপর ভোট দিয়ে তাদের অসম্মতি জানান। সাংবাদিকদের ইউনিয়ন, মিডিয়া, এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড আর্টস অ্যালায়েন্স-এর প্রতিনিধি মাইকেল স্লেজাক বলেন, আমরা এমন কোনো চুক্তি মেনে নিতে পারি না যা কাজের শর্তাবলি হ্রাস করে, মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় বেতন কমিয়ে দেয় এবং সাংবাদিকদের পরিবর্তে এআই বট প্রতিস্থাপনের বিষয়টি নিষিদ্ধ করতে রাজি হয় না।

অন্যদিকে, অসাংবাদিক কর্মীদের ইউনিয়ন, কমিউনিটি অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর ইউনিয়ন-এর জোসেলিন গ্যামি জানান, কর্তৃপক্ষ একটি ন্যায্য প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটা ‘অনিবার্য’। তিনি বলেন, যদিও ইউনিয়ন সদস্যরা চান না যে এবিসি-র দর্শকরা কোনো অসুবিধায় পড়ুক, তবুও তাদের মৌলিক দাবিগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

এবিসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিউ মার্কস অবশ্য দাবি করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রস্তাবটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ এবং আর্থিকভাবে দায়িত্বশীল। তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনা করে আমরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছি যা প্রতিষ্ঠানের জন্য টেকসই।

এই বিরোধ নিরসনের জন্য এবিসি এখন অস্ট্রেলিয়ার কর্মক্ষেত্র বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের সহায়তা চেয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে বেতন সংক্রান্ত বিরোধে এবিসি-তে ধর্মঘট হয়েছিল।