ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শাওয়াল মাসের ছয় রোজা: ধারাবাহিকতা কি জরুরি?

শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখা সুন্নত। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজে এ আমল করতেন এবং তা করার নির্দেশও দিয়েছেন। শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যারা রমজানে রোজা পালন করবে এবং শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখবে, তারা যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম)

ইমাম নববি (রহ.) শাওয়ালের ছয় রোজার এ ফজিলতের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, রমজান মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। রমজানের ৩০টি রোজা এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা মিলিয়ে মোট ৩৬টি রোজা হয়। আল্লাহ তাআলার কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, তার জন্য হবে তার দশ গুণ।’ (সুরা আনআম: ১৬০) এ হিসেবে ৩৬টি রোজার সঙ্গে ১০ গুণ সওয়াব যোগ করলে ৩৬০ দিন বা পুরো বছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়।

শাওয়ালের রোজা একাধারে রাখা জরুরি নয়। শাওয়ালের ছয় রোজা একটানা না রেখে বিরতি দিয়ে আলাদা আলাদা রাখলেও তা আদায় হয়ে যাবে। তবে কেউ যদি একটানা রোজা রাখে, তাতেও আদায় হয়ে যাবে। হাদিসের কোনো বর্ণনায় শাওয়ালের ছয় রোজা একসঙ্গে রাখতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করা হয়নি।

সাপ্তাহিক সুন্নত রোজা, যেমন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজার সাথে মিলিয়ে সহজেই শাওয়ালের রোজাগুলো রাখা যায়। কেউ যদি শাওয়াল মাসের সপ্তাহগুলোতে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখে, তবে তিন সপ্তাহেই তার ছয়টি রোজা রাখা হয়ে যাবে।

ঈদের পর দিন থেকেই শাওয়ালের রোজা রাখা যায়। ইসলামে ঈদুল ফিতর কেবল একদিন, যা শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। শাওয়াল মাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন, অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের পরের দিন ও তার পরের দিনকে আমরা ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন বললেও ইসলামে এ দুই দিন ঈদের দিন নয়। তাই এ দুই দিন রোজা রাখাও নিষিদ্ধ নয়। ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকেই রমজানের কাজা রোজা এবং শাওয়ালের রোজাসহ যেকোনো নফল রোজা রাখা যাবে।

নফল রোজার নিয়ত রাতে করা উত্তম। তবে নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছাকে বোঝায়, মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়। অন্তরে কেউ যদি ইচ্ছা করে যে ‘আগামীকাল আমি শাওয়ালের ছয় রোজার একটি রাখবো’, তবে সেটিই নিয়ত হিসেবে গণ্য হবে। তবে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। যারা আরবি জানেন না, তারা বাংলায় মুখে উচ্চারণ করে রোজার নিয়ত করতে পারেন। অন্তরে রোজার ইচ্ছার সাথে সাথে মুখে এভাবে বলা যেতে পারে, ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নবীজির (সা.) অনুসরণে আগামীকাল শাওয়ালের ছয় রোজার প্রথম/দ্বিতীয় রোজা রাখার নিয়ত করলাম’।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

শাওয়াল মাসের ছয় রোজা: ধারাবাহিকতা কি জরুরি?

আপডেট সময় : ০৬:০২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখা সুন্নত। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজে এ আমল করতেন এবং তা করার নির্দেশও দিয়েছেন। শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যারা রমজানে রোজা পালন করবে এবং শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখবে, তারা যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম)

ইমাম নববি (রহ.) শাওয়ালের ছয় রোজার এ ফজিলতের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, রমজান মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। রমজানের ৩০টি রোজা এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা মিলিয়ে মোট ৩৬টি রোজা হয়। আল্লাহ তাআলার কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, তার জন্য হবে তার দশ গুণ।’ (সুরা আনআম: ১৬০) এ হিসেবে ৩৬টি রোজার সঙ্গে ১০ গুণ সওয়াব যোগ করলে ৩৬০ দিন বা পুরো বছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়।

শাওয়ালের রোজা একাধারে রাখা জরুরি নয়। শাওয়ালের ছয় রোজা একটানা না রেখে বিরতি দিয়ে আলাদা আলাদা রাখলেও তা আদায় হয়ে যাবে। তবে কেউ যদি একটানা রোজা রাখে, তাতেও আদায় হয়ে যাবে। হাদিসের কোনো বর্ণনায় শাওয়ালের ছয় রোজা একসঙ্গে রাখতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করা হয়নি।

সাপ্তাহিক সুন্নত রোজা, যেমন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজার সাথে মিলিয়ে সহজেই শাওয়ালের রোজাগুলো রাখা যায়। কেউ যদি শাওয়াল মাসের সপ্তাহগুলোতে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখে, তবে তিন সপ্তাহেই তার ছয়টি রোজা রাখা হয়ে যাবে।

ঈদের পর দিন থেকেই শাওয়ালের রোজা রাখা যায়। ইসলামে ঈদুল ফিতর কেবল একদিন, যা শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। শাওয়াল মাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন, অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের পরের দিন ও তার পরের দিনকে আমরা ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন বললেও ইসলামে এ দুই দিন ঈদের দিন নয়। তাই এ দুই দিন রোজা রাখাও নিষিদ্ধ নয়। ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকেই রমজানের কাজা রোজা এবং শাওয়ালের রোজাসহ যেকোনো নফল রোজা রাখা যাবে।

নফল রোজার নিয়ত রাতে করা উত্তম। তবে নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছাকে বোঝায়, মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়। অন্তরে কেউ যদি ইচ্ছা করে যে ‘আগামীকাল আমি শাওয়ালের ছয় রোজার একটি রাখবো’, তবে সেটিই নিয়ত হিসেবে গণ্য হবে। তবে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। যারা আরবি জানেন না, তারা বাংলায় মুখে উচ্চারণ করে রোজার নিয়ত করতে পারেন। অন্তরে রোজার ইচ্ছার সাথে সাথে মুখে এভাবে বলা যেতে পারে, ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নবীজির (সা.) অনুসরণে আগামীকাল শাওয়ালের ছয় রোজার প্রথম/দ্বিতীয় রোজা রাখার নিয়ত করলাম’।