ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিতে ৮০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি: নতুন বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রায় ৮০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে একটি নতুন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস) এবং বিবিসির যৌথ এই বিশ্লেষণে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পরপরই প্রথম সপ্তাহে তেহরানের ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলায় এই বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। যদিও মার্কিন সামরিক সম্পদের মোট ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়, তবে অবকাঠামোগত এই ৮০ কোটি ডলারের ক্ষতি আগের হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

সিএসআইএস-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ‘অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির খবর অনেকাংশে কমিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক হতে পারে, তবে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া প্রকৃত হিসাব নির্ধারণ করা কঠিন।’ এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সেন্ট্রাল কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ অবকাঠামো। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জর্ডানের একটি বিমান ঘাঁটিতে থাকা ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেডার আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, একটি এএন/টিপিওয়াই-২ রেডার সিস্টেমের মূল্য প্রায় ৪৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া আবাসন ও অন্যান্য অবকাঠামো মিলিয়ে আরও প্রায় ৩১ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের হামলার শুরু থেকেই রেডার ও স্যাটেলাইট অবকাঠামো প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। বাহরাইনের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর স্যাটেলাইট চিত্রে দুটি র‌্যাডোম ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ মিলেছে, যা স্যাটেলাইট ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যদিও এর সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। এদিকে কুয়েতের আল ক্যাম্প আরিফিন এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতেও রেডার স্থাপনায় হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেডার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যা বড় ধরনের ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে এই হামলার প্রভাব বেশি পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ এইচআরএসএস-এর

ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিতে ৮০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি: নতুন বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রায় ৮০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে একটি নতুন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস) এবং বিবিসির যৌথ এই বিশ্লেষণে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পরপরই প্রথম সপ্তাহে তেহরানের ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলায় এই বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। যদিও মার্কিন সামরিক সম্পদের মোট ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়, তবে অবকাঠামোগত এই ৮০ কোটি ডলারের ক্ষতি আগের হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

সিএসআইএস-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ‘অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির খবর অনেকাংশে কমিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক হতে পারে, তবে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া প্রকৃত হিসাব নির্ধারণ করা কঠিন।’ এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সেন্ট্রাল কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ অবকাঠামো। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জর্ডানের একটি বিমান ঘাঁটিতে থাকা ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেডার আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, একটি এএন/টিপিওয়াই-২ রেডার সিস্টেমের মূল্য প্রায় ৪৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া আবাসন ও অন্যান্য অবকাঠামো মিলিয়ে আরও প্রায় ৩১ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের হামলার শুরু থেকেই রেডার ও স্যাটেলাইট অবকাঠামো প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। বাহরাইনের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর স্যাটেলাইট চিত্রে দুটি র‌্যাডোম ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ মিলেছে, যা স্যাটেলাইট ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যদিও এর সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। এদিকে কুয়েতের আল ক্যাম্প আরিফিন এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতেও রেডার স্থাপনায় হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেডার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যা বড় ধরনের ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে এই হামলার প্রভাব বেশি পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।