ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

জামালপুরে সেতু ভেঙে ৫ শিশুর মৃত্যু, এখনো ২ নিখোঁজ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান ড্রাম সেতু ভেঙে পানিতে ডুবে পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় এখনো অন্তত দুজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীরা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।

ঘটনাটি শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানার অদূরে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেতুর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ ওঠায় এটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। প্রায় শতাধিক দর্শনার্থী পানিতে তলিয়ে যান। অনেকে কোনোমতে তীরে উঠতে পারলেও, বেশ কয়েকজন শিশু পানির স্রোতে ভেসে যায়।

খবর পেয়েই পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত পাঁচ শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। নিহত শিশুরা হলো— ডাকাতিয়া পাড়ার মায়ামনি (১০) ও নিহাদ (১৩), কালুরচর এলাকার আব্দুল মোতালেব (৬) ও খাদিজা (১২), এবং বেলতলি রেলগেট এলাকার আবীর হোসেন (১৪)।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘকাল ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ঈদ উপলক্ষে সেখানে মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল।

দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরদিন সকালে তা পুনরায় শুরু হবে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে এবং নিহতদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরিজ বাঁচানোর মিশনে আজ কিউইদের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ

জামালপুরে সেতু ভেঙে ৫ শিশুর মৃত্যু, এখনো ২ নিখোঁজ

আপডেট সময় : ০২:৫৬:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান ড্রাম সেতু ভেঙে পানিতে ডুবে পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় এখনো অন্তত দুজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীরা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।

ঘটনাটি শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানার অদূরে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেতুর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ ওঠায় এটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। প্রায় শতাধিক দর্শনার্থী পানিতে তলিয়ে যান। অনেকে কোনোমতে তীরে উঠতে পারলেও, বেশ কয়েকজন শিশু পানির স্রোতে ভেসে যায়।

খবর পেয়েই পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত পাঁচ শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। নিহত শিশুরা হলো— ডাকাতিয়া পাড়ার মায়ামনি (১০) ও নিহাদ (১৩), কালুরচর এলাকার আব্দুল মোতালেব (৬) ও খাদিজা (১২), এবং বেলতলি রেলগেট এলাকার আবীর হোসেন (১৪)।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘকাল ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ঈদ উপলক্ষে সেখানে মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল।

দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরদিন সকালে তা পুনরায় শুরু হবে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে এবং নিহতদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে।