ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামে গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য: জিম্মি যাত্রী, হাতাহাতির ঘটনা

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে পুঁজি করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গণপরিবহনে চরম ভাড়া নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে চালক ও সহকারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। এতে সাধারণ যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাস শ্রমিকদের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছেন যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী ডিজেলচালিত মাহিন্দ্রা, টেম্পো ও লোকাল বাসগুলোতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বহদ্দারহাট থেকে নতুন ব্রিজ ও ওয়াসা মোড় পর্যন্ত আগে যেখানে ভাড়া ছিল ১৮ টাকা, এখন তা নেওয়া হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকা। দূরপাল্লার বাসগুলোতে ভাড়া কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মুরাদপুর থেকে ফটিকছড়ির বিবিরহাট রুটে ভাড়া ১০০ টাকার পরিবর্তে ১২০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশাতেও গ্যাসের সংকট না থাকা সত্ত্বেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

পরিবহন সংকটের কারণে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেক চালক তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনের অজুহাত দিয়ে গাড়ি রাস্তায় নামাচ্ছেন না, যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। অফিসগামী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাচ্ছেন না। এই সুযোগে চালকরা অসহায় যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন। এ নিয়ে নগরের জিইসি, আগ্রাবাদ ও একে খান মোড়ে একাধিকবার চালক ও যাত্রীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের তদারকি না বাড়লে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেয়ারবাজারে ‘জাঙ্ক’ কোম্পানির আধিপত্য, বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানির সংকট

চট্টগ্রামে গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য: জিম্মি যাত্রী, হাতাহাতির ঘটনা

আপডেট সময় : ০৭:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে পুঁজি করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গণপরিবহনে চরম ভাড়া নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে চালক ও সহকারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। এতে সাধারণ যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাস শ্রমিকদের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছেন যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী ডিজেলচালিত মাহিন্দ্রা, টেম্পো ও লোকাল বাসগুলোতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বহদ্দারহাট থেকে নতুন ব্রিজ ও ওয়াসা মোড় পর্যন্ত আগে যেখানে ভাড়া ছিল ১৮ টাকা, এখন তা নেওয়া হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকা। দূরপাল্লার বাসগুলোতে ভাড়া কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মুরাদপুর থেকে ফটিকছড়ির বিবিরহাট রুটে ভাড়া ১০০ টাকার পরিবর্তে ১২০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশাতেও গ্যাসের সংকট না থাকা সত্ত্বেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

পরিবহন সংকটের কারণে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেক চালক তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনের অজুহাত দিয়ে গাড়ি রাস্তায় নামাচ্ছেন না, যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। অফিসগামী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাচ্ছেন না। এই সুযোগে চালকরা অসহায় যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন। এ নিয়ে নগরের জিইসি, আগ্রাবাদ ও একে খান মোড়ে একাধিকবার চালক ও যাত্রীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের তদারকি না বাড়লে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে।