ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ঈদের ছুটিতে পদ্মার চরে উপচেপড়া ভিড়: বিনোদনপ্রেমীদের নতুন ঠিকানা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় বিশাল চর জেগে উঠেছে। এই নবগঠিত চরটি এবার ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বিনোদনপ্রেমীদের জন্য এক নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে ভিড় করছেন।

পদ্মার পাড়জুড়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দর্শনার্থীরা চর পেরিয়ে নদীতে নৌকায় চড়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়ানোর পাশাপাশি নদীর স্নিগ্ধ বাতাস উপভোগ করছেন এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। পড়ন্ত বিকেল ও সন্ধ্যার অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য নগর জীবনের ক্লান্তি দূর করে এক অনাবিল প্রশান্তি এনে দিচ্ছে দর্শনার্থীদের মনে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার বিশাল বালুচর এক অনন্য নৈসর্গিক রূপ ধারণ করেছে, যা যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মন জয় করে নিতে সক্ষম। অনেকে এই স্থানটিকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বা ‘কুয়াকাটা’র সঙ্গে তুলনা করছেন। নদীর বালুচর এবং বয়ে চলা নির্মল বাতাসের কারণে জায়গাটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে এই চর যেন দর্শনার্থীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

গোদাগাড়ী পৌরসভার রেলওয়ে বাজার এলাকার পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা শামসুজ্জামান সজল বলেন, ‘একসময় পদ্মার উত্তাল ঢেউ আর গর্জন ছিল মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নদী তার সেই রুদ্র রূপ হারালেও, এই চর এখন নতুনভাবে বিনোদনের এক অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে।’

শনিবার (২১ মার্চ) বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও গোদাগাড়ী মডেল থানার সামনে থেকে রেলবাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা তীরজুড়ে মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছে। পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে আসা মানুষ ঈদের আনন্দে ভাসছেন। কেউ নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন বা সেলফি তুলছেন, আবার কেউ বালুর চরে বসে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় ঘুরতে আসা নিলয় জানান, ‘পদ্মার এই নতুন চর আমাদের জন্য এক নতুন বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। নদীতে নেমে গোসল করা, নৌকা ভ্রমণ করা—সত্যিই এক অসাধারণ অনুভূতি!’

ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা আনোয়ার বলেন, ‘শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এমন একটি জায়গার প্রয়োজন ছিল। নদীর পাড়ের স্নিগ্ধ পরিবেশ, বাতাস, প্রকৃতির সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে এটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এখানে এসে কক্সবাজারের মতো অনুভূতি হচ্ছে।’

পদ্মার বুকে জেগে ওঠা এই চর গোদাগাড়ীর পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটছে। যদিও আগামী বর্ষায় এই চর পানিতে তলিয়ে যাবে, তবে আপাতত এটি বিনোদনপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরিজ বাঁচানোর মিশনে আজ কিউইদের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ

ঈদের ছুটিতে পদ্মার চরে উপচেপড়া ভিড়: বিনোদনপ্রেমীদের নতুন ঠিকানা

আপডেট সময় : ১০:৪২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় বিশাল চর জেগে উঠেছে। এই নবগঠিত চরটি এবার ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বিনোদনপ্রেমীদের জন্য এক নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে ভিড় করছেন।

পদ্মার পাড়জুড়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দর্শনার্থীরা চর পেরিয়ে নদীতে নৌকায় চড়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়ানোর পাশাপাশি নদীর স্নিগ্ধ বাতাস উপভোগ করছেন এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। পড়ন্ত বিকেল ও সন্ধ্যার অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য নগর জীবনের ক্লান্তি দূর করে এক অনাবিল প্রশান্তি এনে দিচ্ছে দর্শনার্থীদের মনে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার বিশাল বালুচর এক অনন্য নৈসর্গিক রূপ ধারণ করেছে, যা যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মন জয় করে নিতে সক্ষম। অনেকে এই স্থানটিকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বা ‘কুয়াকাটা’র সঙ্গে তুলনা করছেন। নদীর বালুচর এবং বয়ে চলা নির্মল বাতাসের কারণে জায়গাটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে এই চর যেন দর্শনার্থীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

গোদাগাড়ী পৌরসভার রেলওয়ে বাজার এলাকার পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা শামসুজ্জামান সজল বলেন, ‘একসময় পদ্মার উত্তাল ঢেউ আর গর্জন ছিল মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নদী তার সেই রুদ্র রূপ হারালেও, এই চর এখন নতুনভাবে বিনোদনের এক অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে।’

শনিবার (২১ মার্চ) বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও গোদাগাড়ী মডেল থানার সামনে থেকে রেলবাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা তীরজুড়ে মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছে। পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে আসা মানুষ ঈদের আনন্দে ভাসছেন। কেউ নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন বা সেলফি তুলছেন, আবার কেউ বালুর চরে বসে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় ঘুরতে আসা নিলয় জানান, ‘পদ্মার এই নতুন চর আমাদের জন্য এক নতুন বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। নদীতে নেমে গোসল করা, নৌকা ভ্রমণ করা—সত্যিই এক অসাধারণ অনুভূতি!’

ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা আনোয়ার বলেন, ‘শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এমন একটি জায়গার প্রয়োজন ছিল। নদীর পাড়ের স্নিগ্ধ পরিবেশ, বাতাস, প্রকৃতির সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে এটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এখানে এসে কক্সবাজারের মতো অনুভূতি হচ্ছে।’

পদ্মার বুকে জেগে ওঠা এই চর গোদাগাড়ীর পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটছে। যদিও আগামী বর্ষায় এই চর পানিতে তলিয়ে যাবে, তবে আপাতত এটি বিনোদনপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।